
সংগৃহীত ছবি
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে ফেসবুকে ‘আদালত অবমাননাকর’ মন্তব্য করার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী হাসানুজ্জামান তুষার ও মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ হাজির হয়ে তাঁরা নিজেদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন। এ সময় ফেসবুকে দেওয়া আগের পোস্টগুলো মুছে ফেলার কথাও আদালতকে জানান দুই আইনজীবী।
তাঁদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, দুই আইনজীবী নিজেদের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আগামী ২৫ জানুয়ারি মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুই আইনজীবীকে সশরীরে হাজির হয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল-২। ওই নির্দেশ অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁরা ট্রাইব্যুনালে হাজির হলে ২৬ অক্টোবর শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেছিল প্রসিকিউশন। ওই আবেদনের ভিত্তিতেই তাঁদের তলব করা হয়।
তামিম বলেন, সাধারণ মানুষ অনেক সময় আদালতের রায় নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। তবে চিফ প্রসিকিউটরের নির্দেশনায় প্রসিকিউশন সাধারণত এসব মন্তব্য উপেক্ষা করে। কিন্তু হাসানুজ্জামান তুষার ও মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হওয়ায় আইন ও আদালতের মর্যাদা সম্পর্কে অবগত। এরপরও রায় নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠায় তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়।
এর আগে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, তৎকালীন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাত আসামিই পলাতক।
একই রায়ে বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তি কিংবা তাঁদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়।