প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:২৯ পিএম (ভিজিট : ৪২)

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বজুড়ে অসংখ্য কোরআনের হাফেজ থাকলেও তাঁদের মধ্যে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন গাজার মুহান্নাদ আল-হুসনি। মাত্র ২৬ দিনে অনাবাসিক পদ্ধতিতে পবিত্র কোরআন হেফজ সম্পন্ন করেন তিনি।
আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ১৪ বছর বয়সে পবিত্র রমজান মাসে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন মুহান্নাদ। প্রতিদিন তিনি এক পারারও বেশি, প্রায় ২৫ পৃষ্ঠা করে কোরআন মুখস্থ করতেন।
২০১৫ সালে গাজার উত্তরাঞ্চলের জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের ‘আল-আওদাহ ইলাল্লাহ’ মসজিদে আয়োজিত ‘আন-নুখবা’ নামের একটি গ্রীষ্মকালীন হেফজ কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর থেকে আসরের নামাজ পর্যন্ত চলত এই কর্মসূচির পাঠদান।
নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে মুহান্নাদ বলেন, খুব স্বাচ্ছন্দ্যেই তিনি পবিত্র কোরআন মুখস্থ করেছেন। এ ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধার মুখে পড়তে হয়নি। হেফজের সময়টি তাঁর কাছে ছিল অত্যন্ত নিবিড়।
তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন এবং কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার জন্যই আমি পবিত্র কোরআন মুখস্থ করেছি। কোরআন আমাদের সবার জীবনবিধান। তাই আমাদের উচিত একে আঁকড়ে ধরা, মুখস্থ করা এবং জীবনে বাস্তবায়ন করা।’
গাজার দারুল কোরআন ওয়াস সুন্নাহ অ্যাসোসিয়েশন পরিচালিত এই কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়। এ ক্ষেত্রে পড়াশোনায় ভালো ফল এবং উত্তম চরিত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এলাকার হেফজ কার্যক্রমের তত্ত্বাবধায়ক ও আল-আওদাহ মসজিদের ইমাম শায়খ সুহাইব আল-কাহলুত জানান, ওই বছর মসজিদে নিয়মিত হেফজ করা ১৫০ শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে ১৫ জনকে কর্মসূচির জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, গাজার হেফজ কার্যক্রমগুলো বর্তমানে অর্থায়ন ও শিক্ষকদের সম্মানী প্রদানের ক্ষেত্রে সংকটে রয়েছে। দীর্ঘদিনের অবরোধের মধ্যে স্থানীয় উদ্যোগ ও অনুদানের ওপর নির্ভর করেই এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
গাজার উত্তরাঞ্চলে সংস্থাটির পরিচালক ড. জামিল আদওয়ান জানান, পুরো উপত্যকায় তাদের ৭৭৬টি হেফজকেন্দ্রে ২২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। হেফজ সম্পন্ন করার পর মুখস্থ করা কোরআন আরও ভালোভাবে আয়ত্ত ও ধরে রাখার জন্য নবীন হাফেজদের ‘হুফফাজ ফোরাম’-এ যুক্ত করা হয়। বর্তমানে এ ফোরামে নিয়মিত অংশ নিচ্ছে ১ হাজার ৭০০-এর বেশি শিক্ষার্থী।