শুক্রবার ● ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ● ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

শিরোনাম: জুমার দিনের বিশেষ ফজিলত    ইসরায়েলে আল জাজিরার ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ৯০ দিন বাড়ল   বছরে এক লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার খবর নাকচ করল জাপান   ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশনে অটোরিকশা চলাচলে নতুন বিধিমালা জারি   সরকারি বাসা ভাড়া বা সাবলেট দিলে বরাদ্দ বাতিলের হুঁশিয়ারি   ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে, তিন দশক পর সংসদে মির্জা ফয়সল আমীন   বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক নিহতের ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী কিশোরের জামিন   
জুমার দিনের বিশেষ ফজিলত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৭ পিএম   (ভিজিট : ৪১)

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ইসলামে জুমার দিন সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। এ দিনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য ফজিলত এবং দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত। মুসলিম উম্মাহর সাপ্তাহিক বৃহত্তম ইবাদত ও সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয় এই দিনকে কেন্দ্র করে।

তাই প্রত্যেক মুমিনের উচিত জুমার দিনের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য উপলব্ধি করা, এর ফজিলত সম্পর্কে জানা এবং কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী আমল করা। এর মাধ্যমে এ দিনের বরকত ও আল্লাহর রহমত লাভের সুযোগ তৈরি হয়।

জুমার দিনের বিশেষ ফজিলত

হাদিসে জুমার দিনের মর্যাদা সম্পর্কে একাধিক বর্ণনা পাওয়া যায়। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘সমস্ত দিনের নেতা হলো জুমার দিন। জুমার দিন আল্লাহ–তাআলার নিকট সবচেয়ে মহান দিবস। এমনকি তা আল্লাহ–তাআলার কাছে ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর তথা ইসলামের দুই ঈদের দিন থেকেও মহান।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৮৪)

অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যেসব দিনের ওপর সূর্য উদিত হয়, সেসব দিনের মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন। এই দিনেই আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনেই তাঁকে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আর কিয়ামতও জুমার দিনেই সংঘটিত হবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৪)

জুমার দিনের আরেকটি বিশেষ ফজিলত হলো, এ দিন বা রাতে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করা হয়। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন বা জুমার রাতে মৃত্যুবরণ করে, তাকে কবরের ফিতনা (আজাব) থেকে রক্ষা করা হয়।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৬৬৪৬)

জুমার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল

জুমার দিনের প্রধান আমল হলো যথাযথ গুরুত্ব ও প্রস্তুতির সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ, জুমার দিন যখন নামাজের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর জিকিরের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম বিষয়, যদি তোমরা তা উপলব্ধি করো।’ (সুরা জুমুআহ, আয়াত: ৯)

জুমার দিনের সুন্নত হলো ভালোভাবে গোসল করে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা, যথাসম্ভব আগে মসজিদে উপস্থিত হওয়া এবং নামাজ, জিকির ও দোয়ায় সময় কাটানো। পাশাপাশি ইমামের খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং খুতবা চলাকালে অহেতুক কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকা।

এ প্রসঙ্গে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুন্নত অনুসারে ভালোভাবে গোসল করবে, সকাল সকাল মসজিদে আসার জন্য রওনা দেবে, বাহনে আরোহণ না করে পায়ে হেঁটে যাবে, ইমামের নিকট বসবে, গুরুত্বসহকারে খুতবা শ্রবণ করবে এবং অহেতুক কাজ ও কথা থেকে বিরত থাকবে; তাহলে (মসজিদের পথে রাখা) প্রতিটি কদমের বিনিময়ে পূর্ণ এক বছর নফল রোজা রাখা এবং এক বছর নফল নামাজ পড়ার সওয়াব তার আমলনামায় লেখা হবে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৪৫)

জুমার দিনের আরও ৩টি বিশেষ আমল

১. সুরা কাহাফ তিলাওয়াত

জুমার দিনের অন্যতম আমল হলো পবিত্র কোরআনের সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করা। এ সম্পর্কে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য এমন এক নূর আলোকিত হবে, যা এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত তার জীবনকে আলোকিত করে রাখবে।’ (সুনানে বায়হাকি, হাদিস: ৬২০৯)

২. দোয়া কবুলের বিশেষ সময়ে প্রার্থনা

জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণকর কিছু প্রার্থনা করলে তিনি তা কবুল করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনে ১২ ঘণ্টার মধ্যে এমন এক মুহূর্ত রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কোনো কল্যাণকর বিষয় প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। সুতরাং তোমরা সেই সময়টি আসরের পর দিনের শেষ মুহূর্তে অনুসন্ধান করো।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮)

এই হাদিসের আলোকে জুমার দিন আসরের নামাজের পর থেকে মাগরিবের আগপর্যন্ত সময়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দোয়া করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

৩. বেশি বেশি দরুদ পাঠ

জুমার দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা। হাদিসে এসেছে, ‘তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কেননা যে ব্যক্তি জুমার দিনে আমার ওপর দরুদ পাঠ করে, তার সেই দরুদ আমার নিকট পেশ করা হয়।’ (বাইহাকি, আস-সুনানুল কুবরা, ৩/২৪৯)

জুমার দিনের এসব আমল যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে একজন মুমিন এ দিনের বিশেষ মর্যাদা, বরকত ও সওয়াব অর্জনের চেষ্টা করতে পারেন।









  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]