প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫০ পিএম (ভিজিট : ৪৪)

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ থেকে বছরে এক লাখ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে জাপান সরকার সম্মতি দিয়েছে—দেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন খবর নাকচ করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জাপান জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এমনকি গত ২৭ অক্টোবর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি।
বৃহস্পতিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস সেক্রেটারি কিতামুরা তোশিহিরো এ তথ্য জানান। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত দুই দেশের শীর্ষ বৈঠকের বিবরণ দেখার পরামর্শ দেন তিনি।
জাপানের এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন দেশটিতে বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
কয়েকটি টেলিভিশনের প্রতিবেদনে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়, জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা কাজে লাগিয়ে বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে কারিগরি প্রশিক্ষণার্থী, নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী এবং বিভিন্ন খাতের পেশাজীবীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানানো হয়।
তবে বাংলাদেশ সরকারের কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা আর জাপান সরকারের নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মী নিতে সম্মতি দেওয়া এক বিষয় নয়। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২৭ অক্টোবরের শীর্ষ বৈঠকের বিবরণে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে বাংলাদেশ থেকে এক লাখ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তের উল্লেখ নেই।
বৈঠকের বিবরণে বলা হয়েছে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে জাপানে ‘স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার’ (এসএসডব্লিউ) বা নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী এবং ‘টেকনিক্যাল ইন্টার্ন’ হিসেবে কাজের সুযোগ রয়েছে।
২০১৯ সালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি সহযোগিতা স্মারক সই হয়। তবে জাপানে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া কঠোর এবং ভাষাগত দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল। ফলে বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর মতো কোনো চুক্তি বা বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি।