বৃহস্পতিবার ● ২২ অক্টোবর ২০২৬ ● ৬ কার্তিক ১৪৩৩

শিরোনাম: ৩১ অক্টোবর জামায়াতের লংমার্চ, থাকবে এক হাজার গাড়ির বহর   খুলনার দাকোপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যাবেন মোংলা বন্দর পরিদর্শনে   সৌদি আরবের শায়বাহ তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলা, নিহত ২ প্রবাসী   দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর তারেক রহমান, সতর্ক বিএনপির নেতাকর্মীরা   সোনারগাঁয়ে দুর্বৃত্তদের চাপাতির কোপে যুবদল নেতা নিহত   বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবেন যারা   বাংলাদেশ-নেপালে হবে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, পূর্ণাঙ্গ সূচি ঘোষনা   
বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবেন যারা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম   (ভিজিট : ৪৫)

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

মুমিনের জীবনে তাওয়াক্কুল বা মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও ভরসার গুরুত্ব অপরিসীম। বিনা হিসাবে ও শাস্তি ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করা আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহ। হাদিসে এমন কিছু মানুষের কথা বর্ণিত হয়েছে, যারা হিসাব-নিকাশ ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবেন। কারা পাবেন এই সৌভাগ্য? কী কী বৈশিষ্ট্য থাকবে তাঁদের মধ্যে? এ বিষয়ে কী বলেছেন বিশ্বনবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)?

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জান্নাতে প্রবেশকারী প্রথম দলটি পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল চেহারা নিয়ে প্রবেশ করবে। পরবর্তী দলটি আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো দীপ্তিময় হবে। তাঁদের অন্তর হবে একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ ও হিংসামুক্ত। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

অন্য বর্ণনায় এসেছে, জান্নাতিদের পাত্র হবে স্বর্ণের। তাঁদের ঘাম থেকে কস্তুরীর মতো সুগন্ধ ছড়াবে। তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক মতবিরোধ ও শত্রুতা থাকবে না; তাঁদের অন্তর হবে এক হৃদয়ের মতো। তাঁরা সকাল-সন্ধ্যায় মহান আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করবেন। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনায় এসেছে, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের সামনে বিভিন্ন নবির অনুসারীদের অবস্থা তুলে ধরেন। কোনো নবির সঙ্গে অল্পসংখ্যক অনুসারী ছিলেন, কোনো নবির সঙ্গে ছিলেন মাত্র একজন বা দুজন। আবার কোনো নবি ছিলেন, যাঁর সঙ্গে কোনো অনুসারীই ছিলেন না।

এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে একটি বিশাল দল উপস্থিত করা হয়। প্রথমে তিনি মনে করেছিলেন, এটি তাঁর উম্মত। কিন্তু তাঁকে জানানো হয়, এটি হজরত মুসা (আ.) ও তাঁর উম্মত। এরপর তাঁকে অন্য দিকে তাকাতে বলা হলে তিনি আরও বড় একটি দল দেখতে পান। তাঁকে জানানো হয়, এটি তাঁর উম্মত। তাঁদের মধ্যে ৭০ হাজার মানুষ বিনা হিসাবে ও বিনা শাস্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করবেন।

এ কথা বলার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ ঘরে চলে যান। তখন সাহাবিরা ওই সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়ে আলোচনা করতে থাকেন। কেউ বললেন, তাঁরা হয়তো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবি। কেউ মনে করলেন, তাঁরা এমন মানুষ, যাঁরা ইসলামের ওপর জন্মগ্রহণ করেছেন এবং আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করেননি।

পরে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁদের কাছে ফিরে এসে আলোচনার বিষয় জানতে চান। সাহাবিরা বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশকারীদের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি তাঁদের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন।

তাঁরা হলেন এমন ব্যক্তি, যাঁরা অন্যের কাছে ঝাড়ফুঁক করানোর ওপর নির্ভর করেন না, নিজেরাও ঝাড়ফুঁক করেন না এবং কোনো কিছুকে অশুভ লক্ষণ মনে করেন না। বরং তাঁরা একমাত্র মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও ভরসা রাখেন।

এ কথা শুনে সাহাবি উক্কাশাহ ইবনে মিহসান (রা.) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমার জন্য দোয়া করুন, যেন আল্লাহ আমাকে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘তুমি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত।’

এরপর আরেক ব্যক্তি একই অনুরোধ জানালে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘উক্কাশাহ এ ব্যাপারে তোমার চেয়ে এগিয়ে গেছে।’ (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশকারীদের সংখ্যা সম্পর্কে আরও বিবরণ পাওয়া যায়। কিছু বর্ণনায় এসেছে, ৭০ হাজারের প্রত্যেক হাজারের সঙ্গে আরও ৭০ হাজার করে মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবেন। এ বিষয়ে বর্ণিত হাদিসগুলোর ব্যাখ্যা ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আলেমদের আলোচনা রয়েছে। তাই নির্দিষ্ট সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বর্ণনার মান ও ব্যাখ্যা বিবেচনা করা জরুরি।

পবিত্র কোরআনেও জান্নাতের অগ্রগামী ও আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন—

وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ ۝ أُولَٰئِكَ الْمُقَرَّبُونَ ۝ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ

অর্থ: ‘আর অগ্রবর্তীরা তো অগ্রবর্তী। তারাই হবে নৈকট্যপ্রাপ্ত। তারা থাকবে নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতসমূহে।’ (সুরা আল-ওয়াকিয়া, আয়াত ১০-১২)

অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন—

وَأُزْلِفَتِ الْجَنَّةُ لِلْمُتَّقِينَ غَيْرَ بَعِيدٍ ۝ هَٰذَا مَا تُوعَدُونَ لِكُلِّ أَوَّابٍ حَفِيظٍ ۝ مَنْ خَشِيَ الرَّحْمَٰنَ بِالْغَيْبِ وَجَاءَ بِقَلْبٍ مُنِيبٍ

অর্থ: ‘আর জান্নাতকে মুত্তাকিদের নিকটবর্তী করা হবে, দূরে নয়। প্রত্যেক আল্লাহমুখী ও সংরক্ষণশীল ব্যক্তিকে এরই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। যে না দেখেও পরম করুণাময় আল্লাহকে ভয় করত এবং বিনীত অন্তর নিয়ে উপস্থিত হতো।’ (সুরা ক্বাফ, আয়াত ৩১-৩৩)

এসব হাদিস থেকে শিক্ষা পাওয়া যায়, মহান আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস, শিরক থেকে দূরে থাকা, কুসংস্কার পরিহার এবং তাঁর ওপর পূর্ণ নির্ভরতা মুমিনের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তাওয়াক্কুলের অর্থ প্রয়োজনীয় বৈধ উপায় অবলম্বন ছেড়ে দেওয়া নয়; বরং যথাসাধ্য চেষ্টা করার পাশাপাশি ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর নির্ভর করা।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বিশুদ্ধ ঈমান, আন্তরিক আমল ও তাঁর ওপর পূর্ণ ভরসা নিয়ে জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমাদের তাঁর বিশেষ অনুগ্রহ লাভ এবং জান্নাতে প্রবেশের সৌভাগ্য দান করুন। আমিন।










  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]