
সংগৃহীত ছবি
"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতাংশ, আবার কেউ কেউ একে পূর্ণাঙ্গ আয়াত হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। আয়াতাংশ হোক বা পূর্ণাঙ্গ আয়াত, ইসলামে বিসমিল্লাহর গুরুত্ব ও মর্যাদা অপরিসীম। ফরজ ইবাদত পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন ভালো কাজ বিসমিল্লাহ বলে শুরু করলে আল্লাহ তাআলার বরকত ও কল্যাণ লাভের আশা করা যায়।
বিসমিল্লাহ হৃদয়ে প্রশান্তি আনে, কাজে মনোযোগ ও আত্মনিবেদনের প্রেরণা জোগায় এবং আল্লাহর ওপর নির্ভরতা বাড়ায়। এর মাধ্যমে মানুষ নিজের কাজের শুরুতেই আল্লাহর স্মরণ ও সাহায্য কামনা করে। বিসমিল্লাহর উল্লেখযোগ্য সাতটি উপকারিতা তুলে ধরা হলো-
১. কোরআনের অনুসরণ
পবিত্র কোরআন মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠ উপহার। এর প্রতিটি সুরায় রয়েছে হিদায়াত ও নূর। সুরা তওবা ছাড়া কোরআনের বাকি ১১৩টি সুরার শুরুতে রয়েছে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’। কোরআনের সুরাগুলোর সূচনায় বিসমিল্লাহর উপস্থিতি এর গুরুত্ব ও মর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
২. বরকতহীনতা থেকে মুক্তি
বিসমিল্লাহ বলে ভালো কাজ শুরু করলে তাতে বরকত লাভের আশা করা যায়। বিপরীতে, গুরুত্বপূর্ণ কাজে আল্লাহর নাম স্মরণ না করলে তা বরকতহীন হতে পারে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যদি আল্লাহকে স্মরণ করে শুরু না করা হয়, তাহলে তা লেজকাটা বা বরকতহীন হয়ে যায়।’ (আল জামেউস সগীর: ৬২৬৬)
৩. আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষিতা স্বীকার
বিসমিল্লাহ বলার মাধ্যমে মানুষ তার জীবনের প্রতিটি কাজ আল্লাহর নামে শুরু করে এবং তাঁর আনুগত্য স্বীকার করে। এতে বান্দা উপলব্ধি করে, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সে আল্লাহর সাহায্য ও অনুগ্রহের মুখাপেক্ষী। আল্লাহর ওপর নির্ভরতাই বান্দার সফলতার অন্যতম পথ।
৪. নবীদের পবিত্র অভ্যাসের অনুসরণ
বিসমিল্লাহর আমল শুধু উম্মতে মুহাম্মদির বৈশিষ্ট্য নয়; পূর্ববর্তী নবীদের জীবনেও এর গুরুত্ব ছিল। পবিত্র কোরআনে হজরত নূহ (আ.)-এর মহাপ্লাবনের সময় নৌকায় আরোহণের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তিনি আল্লাহর নামে নৌকা চালানো ও নোঙর করার কথা বলেছিলেন।
আল্লাহ বলেন, ‘নূহ বলল, তোমরা এ নৌকায় আরোহণ কর। এর চলাও আল্লাহর নামে এবং নোঙর করাও। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা হুদ: ৪১)
একইভাবে হজরত সুলায়মান (আ.)-এর চিঠিও বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু হয়েছিল। সুরা নামলে সাবার রানি বিলকিসের কাছে পাঠানো সেই চিঠির কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘তা শুরু করা হয়েছে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমের মাধ্যমে।’ (সুরা নামল: ২৯-৩০)
৫. আল্লাহর রহমত কামনা
‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ অর্থ- পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। এই বাক্যের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর দয়া ও রহমত কামনা করে। আল্লাহর রহমত ছাড়া মানুষের জীবন ও কল্যাণ সম্ভব নয়। তাই প্রতিটি কাজে তাঁর নাম স্মরণ করে রহমতের আশ্রয় চাওয়া মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আমল।
৬. কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
ওজু, নামাজ, পানাহারসহ বিভিন্ন কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলার প্রচলন রয়েছে। এর মাধ্যমে আল্লাহর অনুগ্রহের স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং তাঁর কাছে দয়া ও রহমত কামনা করা হয়। এতে অন্তরে বিনয় ও নম্রতা তৈরি হয় এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘স্মরণ কর, তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করেন, তোমরা কৃতজ্ঞ হলে তোমাদের অবশ্যই অধিক দেব আর অকৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমার শাস্তি হবে কঠোর।’ (সুরা ইবরাহিম: ৭)
৭. হিদায়াত ও নিরাপত্তা লাভের আশা
মানুষ সবসময় নিরাপত্তা ও সুরক্ষা কামনা করে। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় আল্লাহর ওপর ভরসা প্রকাশ করে দোয়া পড়ার কথা হাদিসে এসেছে।
আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় যদি বলে, ‘বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, ওয়া লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ অর্থাৎ, ‘আল্লাহর নামে শুরু করছি। আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আর কারও কোনো ক্ষমতা নেই তখন তাকে বলা হয়, ‘তুমি হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছ, রক্ষা পেয়েছ ও নিরাপত্তা লাভ করেছ।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৫০৯৫)
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বিসমিল্লাহর গুরুত্ব বোঝার এবং জীবনের প্রতিটি ভালো কাজে তাঁর নাম স্মরণ করে আমল করার তওফিক দান করুন। আমিন।