| শিরোনাম: |

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাজনৈতিক ও আদর্শিক পরিচয়ের কারণে পেশাগত বঞ্চনা, পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং মানসিক হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সরকারি কর্মকর্তা এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা শুরু হওয়ায় এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার কোনো রাজনৈতিক সুবিধাভোগী কর্মকর্তা ছিলেন না। বরং বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাঁকে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে পেশাগত জীবন অতিবাহিত করতে হয়েছে।
জানা যায়, ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তৎকালীন সভাপতি মরহুম শামসুল আলম প্রামানিকের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হওয়া এবং ওই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় দায়িত্ব পালনের বিষয়টি পরবর্তী সময়ে তাঁর পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
অভিযোগ রয়েছে, উপসচিব পদে পদোন্নতির প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদনের অজুহাতে তাঁকে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া ২০১৮ সালে তাঁকে দীর্ঘ আট মাস বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে রাখা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ঘটনা ছিল তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর ওপর পেশাগত চাপ সৃষ্টির অংশ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে কামাল হায়দারের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে দাবি করেছেন সূর্যসেন হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক আল আমিন মিরা। এ রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে তৎকালীন সময়ে দৈনিক জনকণ্ঠ ও অনলাইন সংবাদমাধ্যম দৈনিক শিক্ষাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, এসব প্রতিবেদনের বিষয়ে কামাল হায়দার একাধিকবার প্রতিবাদ জানালেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাননি।
শিক্ষা ক্যাডারের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শিক্ষা প্রশাসনের একটি অংশ তাঁকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করার পেছনে সক্রিয় ছিল। বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) কয়েকজন কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, কিছু অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করে তাঁর বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে নেতিবাচক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের কয়েকজন শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারের কিছু ছবি প্রকাশ করে তাঁকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ব্যাখ্যা, শিক্ষামন্ত্রীরা সরকারি কর্মসূচি ও প্রটোকলের অংশ হিসেবে তাঁর কর্মস্থল বা প্রতিষ্ঠানে গেলে দায়িত্ব পালনের সময় এসব ছবি তোলা হয়েছিল। তাঁদের মতে, কেবল সরকারি দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তোলা ছবি দিয়ে কোনো কর্মকর্তার রাজনৈতিক অবস্থান বা সুবিধাভোগী হওয়ার বিষয়টি নির্ধারণ করা যুক্তিসংগত নয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, দীর্ঘ কর্মজীবনে এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য তাঁদের জানা নেই।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তা যদি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে দীর্ঘদিন পদোন্নতি ও পেশাগত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকেন, তাহলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাঁকে ঘিরে নতুন করে অভিযোগ ও প্রচারণার ক্ষেত্রে তথ্য-প্রমাণের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাইহীন তথ্য প্রচার না করে যেকোনো অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
তাঁদের প্রত্যাশা, এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারকে ঘিরে চলমান বিতর্কের অবসানে সংশ্লিষ্ট সব অভিযোগের যথাযথ যাচাই হবে এবং প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে।