প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১৯ পিএম (ভিজিট : ১১০)

সংগৃহীত ছবি
আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব হাইব্রিড গাড়ি সংযোজন কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে জাপানের শীর্ষস্থানীয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দেশের অটোমোবাইল খাতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তির স্থানান্তর এবং স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
এ উদ্যোগের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি আধুনিক ‘থ্রি-এস’ কেন্দ্র (বিক্রয়, বিক্রয়োত্তর সেবা ও যন্ত্রাংশ) স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ জন্য প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের কথা রয়েছে। চলতি নভেম্বরেই কেন্দ্র দুটির অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরুর কথা।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ সূত্রে জানা গেছে, এসব কেন্দ্রে গাড়ি বিক্রির পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিক মেরামত এবং বিশ্বমানের আসল যন্ত্রাংশ সরবরাহের সমন্বিত সেবা দেওয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বাজারে টয়োটার সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। সরকারের প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকলে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে হাইব্রিড গাড়ি সংযোজনের চূড়ান্ত পর্যায়ে যেতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। এ ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা দেবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।
টয়োটার সম্প্রসারণ পরিকল্পনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা। ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসির সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আবু ইউসুফ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসকে বলেন, দেশে গাড়ি সংযোজন শুরু হলে উচ্চ আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। এতে সাধারণ ক্রেতারা তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে আধুনিক হাইব্রিড গাড়ি কেনার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি আসল যন্ত্রাংশ ও দক্ষ বিক্রয়োত্তর সেবা সহজলভ্য হলে বাজারে ব্র্যান্ডটির প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বাড়বে।
দেশের শিল্প খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ও এসএমএইচ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, টয়োটার এ বিনিয়োগ স্থানীয় যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক, সহযোগী ব্যবসায়ী এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন জনশক্তির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে। স্থানীয় মেধা ও দক্ষতার বিকাশের পাশাপাশি এ উদ্যোগ দেশে আধুনিক অটোমোবাইল শিল্পের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে অন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উৎপাদিত গাড়ি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির উপযোগী করে তুলতে পারলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পাবে। তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দীর্ঘমেয়াদি নীতিসহায়তা, আকর্ষণীয় শুল্ক ও কর সুবিধা এবং সহায়ক শিল্পের বিকাশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থানও শক্তিশালী হতে পারে।