
সংগৃহীত ছবি
দিনের প্রথম সেশনে যে উইকেটে স্পিনে ঘূর্ণি তুলছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা, কিছুক্ষণ পর সেই উইকেটেই সংগ্রাম করতে হয়েছে বাংলাদেশের বোলারদের। কয়েকবার উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও সফলতা আসেনি। অবশেষে শরিফুল ইসলাম এনে দেন কাঙ্ক্ষিত উইকেট।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২১ ওভার ব্যাট করে ১ উইকেট হারিয়ে ১২১ রান করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন আর মাত্র ৫৬ রান।
ওয়ানডে মেজাজে ব্যাট করছিলেন ক্যারিবীয় ওপেনার জন ক্যাম্পবেল। বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ফিফটির দিকে। তবে মাইলফলক ছোঁয়ার আগেই তাঁকে থামান শরিফুল। ২১তম ওভারের চতুর্থ বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে বোল্ড হন ক্যাম্পবেল। ৫৫ বলে ৪৯ রান করে ফেরেন তিনি।
বৃষ্টি থামার পর খেলা শুরু হলেও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। আকাশে রোদের আভা থাকলেও কিছুক্ষণ পরপর বজ্রধ্বনি শোনা যাচ্ছিল। খেলা শুরুর পর ৩.৫ ওভার যেতে না যেতেই প্রথমবার বজ্রধ্বনি শোনা যায়। সর্বশেষ দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে আবারও বজ্রধ্বনি শোনার পর বন্ধ থাকে ম্যাচ।
নিয়ম অনুযায়ী, বজ্রধ্বনি শোনার পর অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয় খেলা পুনরায় শুরুর আগে। সে হিসাবে ২টা ৫০ মিনিটে খেলা শুরুর কথা থাকলেও মাঠের আবহাওয়া বিবেচনায় ২টা ৩৫ মিনিটে খেলা শুরু হয়।
মিরপুরের আকাশে আবারও রোদ দেখা দিলে বেলা ৩টা ১২ মিনিটে বৃষ্টি থামে। মাঠকর্মীরা উইকেট থেকে কভার সরাতে শুরু করেন। তবে ৩টা ১৮ মিনিটে ফের বৃষ্টি শুরু হয়ে চলে সাত মিনিট।
৩টা ২৫ মিনিটে বৃষ্টি থামার পর মাঠ থেকে কভার সরানো হয়। সুপার সোপার দিয়ে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের কাজও চলে। আম্পায়াররা মাঠ পরিদর্শন করলেও খেলা শুরুর আনুষ্ঠানিক সময় জানানো হয়নি।
মিরপুরের পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় দ্রুত মাঠ প্রস্তুত হওয়ার আশা করা হচ্ছিল। তবে বৃষ্টির কারণে খেলা কখন শুরু হবে, তা অনিশ্চিত ছিল।
আলোকস্বল্পতার কারণে আম্পায়াররা খেলা বন্ধ করার কিছুক্ষণ পরই মিরপুরে ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়। দুই দলের খেলোয়াড়েরা ড্রেসিংরুমে ফিরে যান। বৃষ্টিতে মাঠের বেশ কিছু জায়গায় পানি জমে যায় এবং উইকেটসহ মাঠের বড় অংশ কভার দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।
এর আগে চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনে ১৪.১ ওভার ব্যাট করে বিনা উইকেটে ৬৪ রান করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তখনও তারা বাংলাদেশের চেয়ে ১০৬ রানে পিছিয়ে ছিল।
দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে আম্পায়াররা খেলা বন্ধ ঘোষণা করেন। তিন মিনিট পর শুরু হওয়া বৃষ্টির কারণে মাঠ ভিজে যাওয়ায় পুনরায় খেলা শুরুর অপেক্ষা বাড়ে। বৃষ্টির পর তৈরি হওয়া শীতল ও আর্দ্র আবহাওয়া উইকেটে প্রভাব ফেলতে পারে, যা বাংলাদেশের স্পিনারদের বাড়তি সুবিধা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
প্রথম ওভারে ভালো বোলিং করলেও উইকেট পাননি মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর মধ্যাহ্নবিরতিতে যায় দুই দল। বিরতি থেকে ফিরে বাংলাদেশের বোলারদের ধার কমে যায়। তাইজুল ইসলাম ও মিরাজও তেমন চাপ তৈরি করতে পারেননি। ফলে উইকেটের অপেক্ষা বাড়িয়ে এগিয়ে যেতে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনে ১১ ওভার ব্যাট করে বিনা উইকেটে ৫৪ রান করেছিল ক্যারিবীয়রা। তখন তাদের প্রয়োজন ছিল ১১৬ রান।
চতুর্থ দিনের সকাল বাংলাদেশের জন্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচে টিকে থাকতে স্কোরবোর্ডে যতটা সম্ভব রান যোগ করার প্রয়োজন ছিল। এ জন্য শেষ স্বীকৃত ব্যাটার জাকের আলী অনিকের ওপর বড় দায়িত্ব ছিল। তবে দিনের প্রথম ওভারেই হতাশ করে ফেরেন তিনি।
জোমেল ওয়ারিকানের স্লোয়ারে পরাস্ত হয়ে ক্যাচ তুলে দেন জাকের। ৩৪ বলে ২২ রান করে শেষ হয় তাঁর ইনিংস।
অন্যদিকে, একপ্রান্ত আগলে রেখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন নাঈম হাসান। তাঁর হাফসেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের লিড দেড়শ ছাড়িয়ে যায়। চতুর্থ দিনে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৮.৪ ওভার ব্যাট করে ১৪২ রান করে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড থাকায় দুই ইনিংস মিলিয়ে টাইগারদের মোট লিড দাঁড়ায় ১৬৯ রানে।