| শিরোনাম: |

প্রবাসের মাটিতে বাংলাদেশের বাউলসংগীত, লোকঐতিহ্য ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার তুলে ধরার প্রত্যয়ে স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল স্কটল্যান্ড–২০২৬। গত ১৫ অক্টোবর এডিনবরার দ্য ডিন হলে বাংলাদেশ বাউল ও লোকশিল্পী সংস্থা, স্কটল্যান্ড শাখার আয়োজনে এবং রিগ্যাল ইডি লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনটির মধ্য দিয়ে প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির চর্চা, প্রসার এবং সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার প্রয়াস নেওয়া হয়।
উৎসবটির আয়োজন ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন রিগ্যাল ইডি লিমিটেডের পরিচালক এবং বাংলাদেশ বাউল ও লোকশিল্পী সংস্থা, স্কটল্যান্ড শাখার আহ্বায়ক শাহ্ ইমদাদুল হক। তাঁর সঙ্গে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন সংগঠনটির নবগঠিত নির্বাহী কমিটির সভাপতি মিরোস্লাভা হক ইগনদোভা। তাঁদের সম্মিলিত উদ্যোগ, সাংগঠনিক সমন্বয় ও বাংলা সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগ উৎসবটি বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
প্রবাসে বাংলাদেশের ভাষা, সংগীত ও লোকজ ঐতিহ্যের চর্চা অব্যাহত রাখা এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সাংস্কৃতিক শিকড়ের সংযোগ দৃঢ় করা এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম তাৎপর্য। বাউল ও লোকসংগীতের ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিত করে তোলার পাশাপাশি এ ধরনের উৎসব প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণে সংগীতের আয়োজন
বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ও ফেরদৌস ওয়াহিদের অংশগ্রহণ উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল। তাঁদের সংগীত পরিবেশনা অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। এ ছাড়া বাংলাদেশ বাউল ও লোকশিল্পী সংস্থার উপদেষ্টা গোলাম মোস্তফাসহ অংশগ্রহণকারী শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি আয়োজনের সাংস্কৃতিক পরিসরকে সমৃদ্ধ করে।
বাংলাদেশের বাউল ও লোকসংগীতের ঐতিহ্য মানুষের জীবনবোধ, মানবিকতা, সাম্য ও সম্প্রীতির বার্তা বহন করে। সেই ঐতিহ্যকে স্কটল্যান্ডের বহুসাংস্কৃতিক সমাজে তুলে ধরার মাধ্যমে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচিতি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিশিষ্ট অতিথি ও কমিউনিটি প্রতিনিধিদের উপস্থিতি
উৎসবে উপস্থিত ছিলেন স্কটল্যান্ডে বাংলাদেশের সম্মানিত কনসাল ড. অলিদ তসর উদ্দিন এবং স্কটিশ পার্লামেন্টের সদস্য ফয়সাল চৌধুরী। তাঁদের পাশাপাশি স্কটল্যান্ডের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন আব্দুর রহিম জাকির, গোলাম আনিস চৌধুরী, আলমগীর কবির, মোয়াজ্জেম হোসেন, আহমেদ আলী যুব, দীন মোহাম্মদ, আতাউর রহমান ও আবুল কালামসহ প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির আরও অনেকে।
আয়োজনের প্রতি সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে ইউকেএমসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম ও ইউকেএমসির হেড অব বিজনেস শফিকুল ইসলামের প্রতি।
নির্বাহী কমিটি ও সহযোগীদের সম্মিলিত ভূমিকা
বাংলাদেশ বাউল ও লোকশিল্পী সংস্থা, স্কটল্যান্ড শাখার নবগঠিত নির্বাহী কমিটির সভাপতি মিরোস্লাভা হক ইগনদোভা এবং সাধারণ সম্পাদক আজিম মাহমুদ সুমনসহ কমিটির সদস্যরা আয়োজনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সহযোগীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা উৎসবের আয়োজন ও বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখে।
আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত জেমস রোজারিও, রাজা সেলিম, রবিন হোসেন, কল্যাণ চক্রবর্তী, নন্দন বড়ুয়া ও শামস আফরোজ প্রিন্তুর অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে। প্রচারের দায়িত্বে নাজমুল আহসান, আপ্যায়নে শুভ রহমান খান, যোগাযোগে রফিকুল ইসলাম ও মি. বাদল এবং সার্বিক সহযোগিতায় আলাউদ্দিন আলো, ইলিয়াস রহমান খান ও মোমিনুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সহযোগিতা করেন।
এ ছাড়া পৃষ্ঠপোষক, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, লেখক, গবেষক, স্বেচ্ছাসেবক, সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। আয়োজকদের মতে, একটি বৃহৎ সাংস্কৃতিক আয়োজনের সফল বাস্তবায়নে পরিকল্পনা, সাংগঠনিক সমন্বয় এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলা ঐতিহ্যের প্রসারে ধারাবাহিক উদ্যোগের প্রত্যাশা
উৎসবের আয়োজন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবদানের বিষয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন লেখক, লালন গবেষক ও কণ্ঠশিল্পী সরদার হীরক রাজা, যিনি বাংলাদেশ বাউল ও লোকশিল্পী সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি শাহ্ ইমদাদুল হক ও মিরোস্লাভা হক ইগনদোভার আন্তরিক সহযোগিতা, সাংগঠনিক ভূমিকা এবং বাংলা সংস্কৃতির প্রতি দায়বদ্ধতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে উৎসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত শিল্পী, সংগঠক, অতিথি, পৃষ্ঠপোষক, স্বেচ্ছাসেবক ও সহযোগীদের সম্মিলিত অবদানের প্রতিও শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান।
সরদার হীরক রাজার প্রত্যাশা, বাংলাদেশের বাউলসংগীত, লোকসংগীত ও ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক ধারা স্কটল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আরও বিস্তৃত হবে। প্রবাসে সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক শিকড় তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল স্কটল্যান্ড–২০২৬ প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির চর্চা ও প্রসারে সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। শিল্পী, সংগঠক, পৃষ্ঠপোষক ও কমিউনিটির মানুষের সহযোগিতায় এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।