
সংগৃহীত ছবি
ফুটবল, ক্রিকেট, বক্সিংসহ নানা ক্রীড়া আয়োজনের সাক্ষী এবিজি স্পোর্টস সিটি। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন আসরে দর্শকদের মুগ্ধ করা এই ক্রীড়াঙ্গনে এবার বসতে যাচ্ছে তারুণ্যের উৎসব। দেশের ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট ও ফুটবল দল নিয়ে শুরু হচ্ছে ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ’।
টুর্নামেন্টের প্রথম দিনেই মাঠে গড়াবে ক্রিকেটের লড়াই। আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিকেল ৫টায় উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। রাত ৮টায় দ্বিতীয় ম্যাচে লড়বে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। ক্যাম্পাস অ্যাক্টিভেশন কার্যক্রমে ক্রিকেটার ও ফুটবলারদের পাশাপাশি অংশ নিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরাও। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ক্যাম্পাসগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপ। কোন বিশ্ববিদ্যালয় শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হবে, তা নিয়ে চলছে আলোচনা ও বিতর্ক।
সেরা খেলোয়াড়দের বাছাই করে শক্তিশালী দল গঠনেও ব্যস্ত সময় পার করেছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। প্রতিটি দলের লক্ষ্য একটাই—শিরোপা জয়।
গত বৃহস্পতিবার জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের জার্সি ও ট্রফি উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে ক্রিকেট ও ফুটবল দলের ২০ জন অধিনায়ক উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ‘ক্যাপ্টেনস মিট’। এ সময় দলগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হয় রঙিন জার্সি।
এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ আয়োজনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবিজি গ্রুপের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর। জার্সি ও ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক ইমরুল হাসান বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের অনুপ্রেরণা এবং তাঁর সুযোগ্য সন্তান, এবিজি গ্রুপের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের আন্তরিক ইচ্ছা ও আগ্রহেই আমাদের এ প্রচেষ্টা। তাঁর দিকনির্দেশনাতেই এ নতুন উদ্যোগের সূচনা হয়েছে।’
আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারিনা ইতিমধ্যে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিতি পেয়েছে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রশংসা করেছেন। অন্যদিকে, বসুন্ধরা কিংস অ্যারিনা স্বীকৃতি পেয়েছে ফুটবলের বিশ্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি)। এই মাঠে অস্ট্রেলিয়া, ফিলিস্তিন, লেবানন, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তানের মতো দল খেলেছে। এখানে এএফসি কাপের ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে এবিজি স্পোর্টস সিটি। দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের কেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্ব বাড়ছে এই কমপ্লেক্সের। ২০৩১ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ আয়োজনের লক্ষ্যে এখানে নতুন একটি ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ চলছে। কর্তৃপক্ষের আশা, ২০২৭ সালের মধ্যে স্টেডিয়ামটির নির্মাণকাজ শেষ হবে।
ফুটবলের বিশ্বমঞ্চের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে বসুন্ধরা কিংস অ্যারিনা। এই মাঠে খেলা অস্ট্রেলিয়া দলের ১১ জন ফুটবলার পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন। এবার ক্রিকেট বিশ্বকাপের প্রস্তুতির সঙ্গেও যুক্ত হতে যাচ্ছে এবিজি স্পোর্টস সিটি।
এবার সেই পরিচিত ক্রীড়াঙ্গনেই খেলার সুযোগ পাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণেরা। আগামী কয়েক সপ্তাহ ক্রিকেট ও ফুটবলের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মুখর থাকবে মাঠ দুটি।
ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব স্কলারস, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি, ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
ফুটবল টুর্নামেন্টের ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, ইউনিভার্সিটি অব স্কলারস, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি।
দল প্রস্তুত, মাঠও প্রস্তুত। এখন অপেক্ষা শুধু মাঠের লড়াই শুরুর। আজ পর্দা উঠছে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের, আর সেই সঙ্গে শুরু হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই।