
সংগৃহীত ছবি
ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং-বোলিংয়ে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। বল হাতে তাসকিন আহমেদ ৩ উইকেট নিলেও দলের পরাজয়ে সেই পারফরম্যান্সকে মূল্যহীন মনে করছেন এই পেসার। তাঁর মতে, শুরুতে বোলাররা ভালো করলেও ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের ১৫০ রানের জুটি ম্যাচ থেকে বাংলাদেশকে ছিটকে দেয়।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন বলেন, ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের জয়ই একজন খেলোয়াড়ের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘ম্যাচ হারলে একজন খেলোয়াড়ের জন্য সেটাই সবচেয়ে বড় হতাশার। আসলে যতই ৩ উইকেট বা ৫ উইকেট পাই, ম্যাচ না জিতলে কখনোই সেটা লাভ হয় না। শুরুটা খুব দারুণ হয়েছিল। এটাও ঠিক যে উইকেটটা ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো ছিল। কিন্তু মাঝখানে ওদের বড় একটা জুটি হয়ে যায়। শুরুর সাফল্যের পর ওই লম্বা জুটির কারণে ওরা অনেকটা এগিয়ে যায়। সেই জুটি ভাঙার পরও আমার মনে হয়, ওদের মোটামুটি রানের মধ্যে আটকে রাখা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত শেষ পর্যন্ত আর জেতা হলো না।’
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ব্যর্থতার পর কোচদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, বিদেশি কোচ নিয়োগ দিলে দলের পারফরম্যান্সে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে তাসকিনের মতে, কোচ দেশি না বিদেশি, সেটি বড় বিষয় নয়। বরং কোচিংয়ের মান ও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এ প্রসঙ্গে তাসকিন বলেন, ‘দেশি হোক বা বিদেশি, সবার মূল ধারণাগুলো একই। বিদেশি কোচ এলেই যে দুনিয়ার সব উল্টে যাবে, এমন কিছু নয়। দেশি কোচরাও যথেষ্ট সক্ষম। আমাদের দলে যারা আছেন, তাঁরা নিজেরাও ভালো পর্যায়ে ক্রিকেট খেলেছেন এবং ভালোভাবেই কোচিং করাচ্ছেন। কিন্তু আমরা আসলে ফলাফলনির্ভর দল হওয়ায় এসব বিষয় একটু বেশি চোখে পড়ে। হারলে দেশি কোচদের নিয়ে অনেক কথা হয়, জিতলে আবার প্রশংসা কম হয়।’
তাসকিনের মতে, এই ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের সুযোগ ছিল। তবে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় মেহেদী হাসান মিরাজের না খেলা দলের জন্য কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। ওয়ানডে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় মিরাজের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও বাকি খেলোয়াড়দের সামর্থ্য নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই তাঁর।
তাসকিন বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত মিরাজের জ্বর ছিল। ও খেলেনি। ও আমাদের ওয়ানডে দলের অন্যতম প্রধান একজন খেলোয়াড়। কিন্তু যারা খেলেছেন, তাঁরাও যথেষ্ট সক্ষম। দুর্ভাগ্যবশত আজকে হয়নি।’
উইকেটের চরিত্র নিয়েও কথা বলেন এই পেসার। তাঁর মতে, ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো উইকেটে বড় জুটি গড়ে তোলার সুযোগ ছিল বাংলাদেশেরও। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবিতে টেস্ট ম্যাচটি পঞ্চম দিন পর্যন্ত গড়ানোর উদাহরণ টেনে তিনি বোঝান, এই উইকেটে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করা সম্ভব ছিল।
তাসকিনের ভাষায়, ‘এই উইকেটটা আপনারা কয়েক দিন আগেও দেখেছেন। আবুধাবিতে আফগানিস্তানের সঙ্গে টেস্ট ড্র হয়েছে, পঞ্চম দিন পর্যন্ত অনেক লম্বা সময় খেলা হয়েছিল। এই উইকেট আসলেই রান হওয়ার মতো। এখানে চাইলেই জুটি গড়া যেত, আর ওরা সেটা করেও দেখিয়েছে।’