
সংগৃহীত ছবি
একদিকে বিশাল হস্তিবাহিনী, অন্যদিকে মক্কার অসহায় মানুষ। আবরাহার নেতৃত্বে সেই বাহিনীর লক্ষ্য ছিল পবিত্র কাবাঘর ধ্বংস করা। কিন্তু বিপুল সৈন্য ও হাতির শক্তিও তাদের রক্ষা করতে পারেনি। ইসলামের ইতিহাসে বর্ণিত আছে, আল্লাহ তাআলা তাদের মোকাবিলায় ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠিয়েছিলেন। পাখিগুলো ছোট ছোট পাথর নিক্ষেপ করলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে আবরাহার বিশাল বাহিনী। কী ঘটেছিল সেদিন? পবিত্র কোরআনেই বা কীভাবে বর্ণিত হয়েছে এই ঘটনা?
ইসলামের ইতিহাসে ঘটনাটি ‘আসহাবে ফিল’ বা হাতির বাহিনীর ঘটনা নামে পরিচিত। প্রচলিত ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছিল মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মের বছর। সে সময় ইয়েমেনের শাসক ছিলেন আবরাহা। কাবাঘরের প্রতি মানুষের গভীর আকর্ষণ দেখে তিনি ঈর্ষান্বিত হন এবং নিজের অঞ্চলে মানুষকে আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা করেন।
এ উদ্দেশ্যে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় একটি জাঁকজমকপূর্ণ উপাসনালয় নির্মাণ করেন আবরাহা। তাঁর আশা ছিল, মানুষ পবিত্র কাবাঘরের পরিবর্তে সেখানে সমবেত হবে। কিন্তু তাঁর সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি কাবাঘর ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেন। এ উদ্দেশ্যে বিশাল সৈন্যবাহিনী ও হাতি নিয়ে মক্কার দিকে অগ্রসর হন তিনি।
অন্যদিকে, মক্কার মানুষ বুঝতে পারছিলেন, এত বড় বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জয়ী হওয়া অত্যন্ত কঠিন। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, মক্কার নেতা আবদুল মুত্তালিব আল্লাহর ওপর ভরসা করেন। এরপর কাবাঘর ধ্বংসের উদ্দেশ্যে আবরাহার বাহিনী মক্কার দিকে এগিয়ে যায়।
কিন্তু তাদের পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। পবিত্র কোরআনের ১০৫ নম্বর সূরা আল-ফিলে আল্লাহ তাআলা এই ঘটনার উল্লেখ করেছেন। সূরাটির শুরুতে বলা হয়েছে, হাতির অধিপতিদের সঙ্গে আল্লাহ কী আচরণ করেছিলেন, তা কি মহানবী (সা.) দেখেননি? এরপর বর্ণনা করা হয়েছে, কীভাবে তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছিল।
সূরা আল-ফিলের বর্ণনা অনুযায়ী, আল্লাহ তাআলা আবরাহার বাহিনীর ওপর ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠিয়েছিলেন। পাখিগুলো তাদের ওপর পোড়ামাটির পাথর নিক্ষেপ করেছিল। এর পরিণতিতে আল্লাহ তাদের পরিণত করেছিলেন ভক্ষিত শস্যপাতার মতো।
কোরআনের এই বর্ণনা অনুযায়ী, কাবাঘর ধ্বংস করতে আসা শক্তিশালী বাহিনীর পরিকল্পনা আল্লাহর হস্তক্ষেপে ব্যর্থ হয়ে যায়। বিপুল সৈন্য, হাতি কিংবা সামরিক শক্তি—কোনো কিছুই তাদের রক্ষা করতে পারেনি।
সূরা আল-ফিলের শিক্ষা
সূরা আল-ফিল ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ সূরার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাঁর অসীম ক্ষমতা এবং পবিত্র কাবাঘরের সুরক্ষার ঘটনা তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে এ ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয়, মানুষের বাহ্যিক শক্তি ও সংখ্যাধিক্যই চূড়ান্ত নয়; সবকিছুর ওপর আল্লাহর ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব রয়েছে।
আবরাহার বাহিনীর পরাজয়ের ঘটনা মুসলমানদের কাছে আল্লাহর ক্ষমতার এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত। তবে কোরআনের বর্ণনার বাইরে এ ঘটনা সম্পর্কে প্রচলিত অতিরিক্ত বিবরণ গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সূত্র যাচাই করা জরুরি।
পবিত্র কাবাঘর ধ্বংসের উদ্দেশ্যে আবরাহার বিশাল বাহিনীর অভিযান এবং তাদের ব্যর্থতার ঘটনা আজও মুসলমানদের স্মরণ করিয়ে দেয়, আল্লাহর ইচ্ছার সামনে কোনো শক্তিই চূড়ান্ত নয়।