
সংগৃহীত ছবি
সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে জুমাবার অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ একটি দিন। মুমিনদের জন্য এ দিন আত্মশুদ্ধি, ইবাদত-বন্দেগি এবং মহান আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত লাভের বিশেষ সুযোগ এনে দেয়। জুমার দিনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য, বিশেষ ফজিলত এবং বরকতময় আমলগুলো পর্যায়ক্রমে তুলে ধরার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।
১. শ্রেষ্ঠ দিন নির্বাচনের ক্ষেত্রে উম্মতে মুহাম্মদীর অগ্রগামিতা
আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী উম্মতদের সপ্তাহের শ্রেষ্ঠতম দিনে বিশেষ ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু তারা সঠিক দিন নির্ণয় করতে ভুল করেছিল। ইহুদিরা শনিবার এবং খ্রিস্টানরা রোববারকে নির্ধারণ করেছিল, আর আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুহাম্মদীকে জুমার দিনের সঠিক পথ দেখিয়েছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
نَحْنُ الآخِرُونَ السّابِقُونَ يَوْمَ القِيَامَةِ، بَيْدَ أَنّهُمْ أُوتُوا الكِتَابَ مِنْ قَبْلِنَا، ثُمّ هَذَا يَوْمُهُمُ الّذِي فُرِضَ عَلَيْهِمْ، فَاخْتَلَفُوا فِيهِ، فَهَدَانَا اللهُ، فَالنّاسُ لَنَا فِيهِ تَبَعٌ: اليَهُودُ غَدًا، وَالنّصَارَى بَعْدَ غَدٍ
‘আমরা পরে আগমনকারীরাই কিয়ামতের দিন অগ্রগামী হব। তবে অন্যদেরকে (আসমানি) কিতাব দেওয়া হয়েছে আমাদের আগে। এই দিন তাদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা এতে মতবিরোধ করেছে। আর আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিক দিনটির পথ দেখিয়েছেন। সুতরাং এক্ষেত্রে মানুষ আমাদের অনুগামী। ইহুদিদের শ্রেষ্ঠ দিন জুমার পরের দিন শনিবার আর খ্রিস্টানদের শ্রেষ্ঠ দিন এর পরের দিন রোববার।’ (বুখারি ৮৭৬, মুসলিম ৮৫৫)
২. জুমার দিনের পাঁচটি বিশেষ ফজিলত ও বৈশিষ্ট্য
জুমার দিনটি সমস্ত দিনের সর্দার এবং শ্রেষ্ঠ দিবস। এই দিনের বিশেষ পাঁচটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। বদরি সাহাবি আবু লুবাবা ইবনে আবদুল মুনজির (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
إِنّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ سَيِّدُ الْأَيّامِ وَأَعْظَمُهَا عِنْدَ اللهِ مِنْ يَوْمِ الْأَضْحَى وَيَوْمِ الْفِطْرِ، فِيهِ خَمْسُ خِلَالٍ: خَلَقَ اللهُ فِيهِ آدَمَ، وَأَهْبَطَ اللهُ فِيهِ آدَمَ، وَفِيهِ تَوَفّى اللهُ آدَمَ، وَفِيهِ سَاعَةٌ لَا يَسْأَلُ اللهَ الْعَبْدُ فِيهَا شَيْئًا إِلّا أَعْطَاهُ إِيّاهُ، مَا لَمْ يَسْأَلْ حَرَامًا، وَفِيهِ تَقُومُ السّاعَةُ، مَا مِنْ مَلَكٍ مُقَرّبٍ، وَلَا أَرْضٍ وَلَا سَمَاءٍ، وَلَا رِيَاحٍ وَلَا جِبَالٍ وَلَا بَحْرٍ، إِلّا وَهُنّ مُشْفِقُونَ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ
‘নিশ্চয়ই জুমার দিন হল সমস্ত দিনের সর্দার। জুমার দিন আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে মহান দিন। এমনকি এই দিন আল্লাহ তাআলার কাছে ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর তথা ইসলামের দুই ঈদের দিন থেকেও মহান। জুমার দিনের বিশেষ পাঁচটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে—
এ দিন আল্লাহ তাআলা আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করেছেন।
এ দিন তাকে জান্নাত থেকে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন।
এদিনেই আল্লাহ তাকে মৃত্যু দান করেছেন।
জুমার দিন একটা সময় আছে, যাতে বান্দা আল্লাহর কাছে যা চাইবে আল্লাহ তাআলা তাকে তা-ই দান করবেন, যদি না সে হারাম কোনো বিষয়ের প্রার্থনা করে।
কিয়ামতও সংঘটিত হবে জুমার দিনেই। নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতারা পর্যন্ত জুমার দিন (কিয়ামতের আশঙ্কায়) ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে। পৃথিবী, আকাশ, বাতাস, পাহাড়, পর্বত, সাগর সবকিছু জুমার দিন (কিয়ামতের আশঙ্কায়) উদ্বিগ্ন থাকে।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ৫৫৫৯, মুসনাদে আহমাদ ১৫৫৪৮, ইবনে মাজাহ ১০৮৪১)
৩. জুমার রাতে বান্দার আমল পেশ করা হয়
জুমার রাতের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এই রাতে বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
إِنَّ أَعْمَالَ بَنِي آدَمَ تُعْرَضُ كُلّ خَمِيسٍ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ، فَلَا يُقْبَلُ عَمَلُ قَاطِعِ رَحِمٍ.
‘বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে অর্থাৎ জুমারাতে আদম সন্তানের আমল (আল্লাহর সামনে) পেশ করা হয়। তখন আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীদের আমল কবুল করা হয় না।’ (মুসনাদে আহমাদ ১০২৭২, আদাবুল মুফরাদ ৬১২)