প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এএম (ভিজিট : ৮০)

সংগৃহীত ছবি
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিরোধী দলগুলোর জোট ইন্ডিয়া। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে জোটের বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে আন্দোলন আরও জোরালো করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় মমতার পাশে ছিলেন কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী। মমতার বক্তব্য শেষে সোনিয়া তার পিঠে হাত রাখেন এবং পরে দুজনকে করমর্দন করতে দেখা যায়। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও ভোটার তালিকা সংশোধনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন জোটের নেতারা।
মমতা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনী অনিয়মের কারণে ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে ভোট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ আগেও নির্বাচন কমিশনের কাছে জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য নিয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিরোধীদের সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে মতবিনিময় বা মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়।
মমতা বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও তারা সমাধান পাননি। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে নির্বাচন ব্যবস্থায় প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে কারচুপির অভিযোগ তোলেন তিনি। এসব অভিযোগ অবশ্য বিরোধীদের রাজনৈতিক দাবি হিসেবে রয়েছে; নির্বাচন কমিশন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বৈঠক থেকে ২ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ মিছিল ও জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর বিরোধী দলের সাংসদরা দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তর পর্যন্ত মিছিল করবেন। এতে সব বিরোধী সাংসদকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অক্টোবরে দ্বিতীয় সপ্তাহে বিরোধী নেতারা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, আন্দোলনে তরুণ, বিভিন্ন সংগঠন ও ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।