বৃহস্পতিবার ● ১ অক্টোবর ২০২৬ ● ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

শিরোনাম: আউটসোর্সিংয়ের সংশোধিত নীতিমালা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট   নিজ নির্বাচনী এলাকায় না জানিয়ে উচ্ছেদ অভিযান, বিস্ময় প্রকাশ জামায়াত আমিরের   ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা   লোহাগড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় সোহেল রানা লাক্সমি   মরিয়মের মৃত্যুর মামলায় আপস, এমপি গাজী নজরুলের জামিনে আপত্তি নেই   মিয়ানমার জান্তার বিমান হামলা, বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে নিহত ৫০   নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা: অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন গ্রেপ্তার   
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার খবরে স্বস্তি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৪ এএম   (ভিজিট : ১৯২)

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই, নেই কোনো আয়োজন বা ডামাডোল। এর মধ্যেই নীরবে আবারও খুলতে শুরু করেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার সুপরিচিত সুপারমার্কেট চেইন এনএসকে ট্রেড সিটির চাহিদার ভিত্তিতে ২৮ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র সত্যায়ন করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে হাইকমিশন ও বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড (আরএল-২০৬৮)।

চাহিদাপত্র সত্যায়নের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম কার্যত আবারও শুরু হলো। তবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই বাজার চালুর বিষয়টি সামনে আসায় স্বচ্ছতা ও নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

২০২৪ সালের ৩১ মে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী প্রবেশের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। কর্মী নিয়োগে অনিয়ম, অতিরিক্ত ব্যয় ও বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সে সময় নতুন কর্মী প্রবেশ বন্ধ করে দেয় দেশটির সরকার।

এরপর দীর্ঘ আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে শ্রমবাজারটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিয়ে বিশেষ বৈঠকে বন্ধ ও সংকুচিত শ্রমবাজারগুলো পুনরায় উন্মুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার প্রথম বিদেশ সফরও ছিল মালয়েশিয়ায়। সফরকালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরুর বিষয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ওই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের পথ আবারও উন্মুক্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দুই দেশের কোনো পক্ষ থেকেই নতুন করে শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

শ্রমবাজার খুললেও এবার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, স্বচ্ছ ও নিরাপদ ব্যবস্থায় বাংলাদেশি কর্মীরা মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন কি না। তথ্যের ঘাটতি ও নিয়োগপ্রক্রিয়ার জটিলতার সুযোগে আবারও দালাল, মধ্যস্বত্বভোগী ও কথিত সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠবে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

মালয়েশিয়া সরকার প্রায় এক মাস আগে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও ধাপ প্রকাশ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে এসব তথ্য যথাযথভাবে প্রচার না হওয়ায় চাকরিপ্রত্যাশীদের বড় একটি অংশ এখনো জানেন না, কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় এবং কার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় চাকরির জন্য আবেদন করতে হবে।

এই তথ্যঘাটতির সুযোগে কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি, ট্রাভেল এজেন্সি, দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রচারণা, চাকরির আশ্বাস এবং দ্রুত মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। ফলে সরকারি তথ্যের পরিবর্তে দালালচক্রের প্রচারণাই অনেকের কাছে নির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কাউকে পাসপোর্ট জমা না দিতে, টাকা পরিশোধ না করতে এবং মেডিকেল পরীক্ষা না করাতে পরামর্শ দিয়েছে।

২৮ কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়নের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হলেও কর্মী পাঠানোর পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া, সম্ভাব্য ব্যয় এবং পরবর্তী ধাপ নিয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

অতীতের অভিজ্ঞতায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে কর্মীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এবারও বাজারে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার আলোচনা শোনা যাচ্ছে। শ্রমবাজার সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সরকার নির্ধারিত ব্যয় এবং কর্মীদের প্রকৃত ব্যয়ের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হতে পারে।

এরই মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় বোয়েসেলের মাধ্যমে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সেটির বাস্তবায়ন দেখতে চান চাকরিপ্রত্যাশীরা। তাদের মতে, সরকারি ব্যবস্থায় কম খরচে ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানো নিশ্চিত করা গেলে দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমানো সম্ভব।

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন অভিযোগের কারণে একাধিকবার দেশটির শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছে। পরে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে তা পুনরায় চালু হয়েছে। এবারও পুরোনো অনিয়মের পুনরাবৃত্তি হলে নতুন করে সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ সরকার স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় কর্মী নির্বাচন ও প্রেরণের জন্য ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম (ওইপি) চালু করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ব্যবস্থায় সরকারি ডাটাবেজ থেকে কর্মী নির্বাচন নিশ্চিত করা গেলে অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দালালনির্ভরতা কমানো সম্ভব।

বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইনের ১৯ ধারায় প্রথমে বিএমইটির ডাটাবেজ থেকে উপযুক্ত কর্মী নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। সেখানে উপযুক্ত কর্মী পাওয়া না গেলে সরকারের অনুমতি নিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কর্মী বাছাইয়ের বিধান রয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অতীতে এই বিধান পুরোপুরি অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি চাহিদাপত্র পাওয়ার আগেই কর্মী সংগ্রহ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। তাই এবার শ্রমবাজার চালুর শুরুতেই আইনি কাঠামো অনুসরণ এবং সরকারি ডাটাবেজভিত্তিক কর্মী নির্বাচন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এবার কতটা স্বচ্ছ ও নিরাপদ থাকে, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে দেশটিতে বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ। অতীতের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো, অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের দালালচক্রের হাত থেকে সুরক্ষা দেওয়াই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।











  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]