
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫৮ জন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর এই হামলায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, রাখাইনে চলমান সহিংসতা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফেরার মতো পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, মহাসচিব হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সব পক্ষকে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত আরাকান আর্মি (এএ) জানিয়েছে, বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা কিয়াউকতাও শহরে গত ২৮ সেপ্টেম্বরের বিমান হামলায় ৫০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৫৮ জন। স্থানীয় সাহায্যকর্মী ওয়াই হুন অংও প্রাণহানির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্ধারকাজের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছেন। সেখানে উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে নারী ও শিশুদেরও দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একটি হাসপাতালে সামরিক বাহিনীর বোমা হামলায় ৩০ জন নিহত হওয়ার পর কিয়াউকতাওয়ে সোমবারের হামলাটিকে রাখাইনে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইং থুখা অভিযোগ করেছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী বিমান হামলার মাধ্যমে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক ভবন ও বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
তবে হামলার বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মিয়ানমার জান্তা সরকারের কোনো মুখপাত্রের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে সামরিক বাহিনী দাবি করে আসছে, অভিযানে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা এড়াতে তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করে। জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী সংঘাতে জড়িয়ে আছে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতে দেশটিতে বিপুল প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে, দেশটির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তির আওতায় মঙ্গলবার প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিয়ানমারের নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়া সরকার এ প্রক্রিয়াকে ‘স্বেচ্ছায় স্বদেশে প্রত্যাবর্তন’ হিসেবে বর্ণনা করলেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এর সমালোচনা করেছে।