
সংগৃহীত ছবি
একদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে ইউরো, বিশ্বকাপ ও ইউরোজয়ী স্পেন। দুই পরাশক্তির লড়াইয়ে তাই ফাইনালটি হয়ে উঠেছিল স্বপ্নের মতো। শেষ পর্যন্ত আলবিসেলেস্তেদের হারিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের শিরোপা পুনরুদ্ধার করে লা রোজারা।
গত ১৯ জুলাই নিউজার্সির ফাইনাল শেষে দেখা যায় আবেগঘন এক দৃশ্য। একে অপরকে জড়িয়ে ধরেছিলেন দুই দলের দুই প্রজন্মের সেরা তারকা লিওনেল মেসি ও লামিন ইয়ামাল। একজনের ক্যারিয়ারের শেষপ্রান্তে, অন্যজনের পথচলা সবে শুরু। সেদিনের সেই আলিঙ্গনের মুহূর্তে দুই তারকার মধ্যে কী কথা হয়েছিল, দুই মাস পর তা জানা গেল ইয়ামালের মুখে।
নিউজার্সির সেই স্টেডিয়াম মেসির জন্য ছিল টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণের মঞ্চ। আর ইয়ামালের জন্য প্রথম বিশ্বকাপেই বাজিমাত করার সুযোগ। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয়ে হাসে স্পেন। অন্যদিকে পরাজয়ের হতাশায় অঝোরে কাঁদছিলেন মেসি। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন তারকাকে জড়িয়ে ধরেন ইয়ামাল।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই মুহূর্তের কথা জানিয়েছেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। ইয়ামাল বলেন, ‘ফুটবলের জন্য আপনি যা কিছু করেছেন, তার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।’
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আজন্মলালিত স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে এরপর ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ ফিনালিসিমাও জিতেছেন তিনি। শিরোপা ও গোলের পর গোল করে গড়েছেন অসংখ্য রেকর্ড। তাই মেসিকে সর্বকালের অন্যতম সেরা নয়, সরাসরি সেরার আসনে বসিয়েছেন ইয়ামালও।
মেসির প্রশংসা করে ইয়ামাল বলেন, ‘বিশ্বকাপ জেতার আগে, কোপা আমেরিকা জেতার আগে, এমনকি যখন পরিস্থিতি খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না, তখনও আমি সবসময় মনে করতাম তিনিই সেরা। নিঃসন্দেহে তিনিই সেরা ছিলেন।’
আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালের আগে থেকেই ম্যাচটিকে অনেকে দেখছিলেন মেসি-ইয়ামালের দ্বৈরথ হিসেবে। মেসি বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকা জিতে নিজেকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইউরো, লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা জিতে নিজের আগমনের জানান দিয়েছিলেন ইয়ামাল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বিশ্বকাপের শিরোপাও উঠেছে তার হাতে।
ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে মেসিকে সামনে পেয়ে তার সঙ্গে আলিঙ্গনের সুযোগ হাতছাড়া করেননি ইয়ামাল। তবে সেটি কোনো পরিকল্পিত মুহূর্ত ছিল না বলেই জানিয়েছেন তিনি।
সেদিনের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে ইয়ামাল বলেন, ‘ফুটবলে যেটাকে সুন্দর বলে মনে করা হয় কিংবা ছবিতে যেসব মুহূর্ত দেখতে ভালো লাগে—সব সময় সেসব থেকে আমি একটু দূরে থাকার চেষ্টা করি। এটা আমার ভেতর থেকেই এসেছিল। আমি তাকে সেখানে দেখলাম। ফুটবলের জন্য তিনি যা করেছেন, সেটার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাতে গেলাম। ব্যাপারটা একেবারেই স্বতঃস্ফূর্ত ছিল।’
এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের ইঙ্গিতও দিয়েছেন মেসি। গত ৩১ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডায়েরির তিনটি ছেঁড়া পাতা ও একটি সোনালি কলমের ছবি দিয়ে আবেগঘন এক পোস্টে বিদায়ের ঘোষণা দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তার সেই ঘোষণায় ফুটবল বিশ্বজুড়ে তৈরি হয় ব্যাপক আবেগ।
গত ২১ বছরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০৭ ম্যাচ খেলে ১২৫ গোল করেছেন মেসি। পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৬৮টি গোল। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার পথচলা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। আগামী ৬ অক্টোবর মনুমেন্তালে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার শেষ ম্যাচ হতে যাচ্ছে।
ক্লাব ফুটবলেও অবশ্য থামেনি মেসির সাফল্যের যাত্রা। গত ১৭ সেপ্টেম্বর মায়ামির নু স্টেডিয়ামে ক্যাম্পিওনিস কাপের ফাইনালে ক্রুজ আজুলকে ২-০ গোলে হারায় ইন্টার মায়ামি। সেই ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি কাসেমিরোকে দিয়ে আরেকটি গোল করান মেসি। এই শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ারে নিজের ৪৮তম ট্রফি ঘরে তোলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।