প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০২ পিএম (ভিজিট : ৬৪)

সংগৃহীত ছবি
উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো প্রথমবারের মতো একজন নারীকে সরকারপ্রধান হিসেবে পেয়েছে। দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ নগর পরিকল্পনামন্ত্রী ও আইনজীবী ফাতিমা জাহরা এল মানসুরিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।
৫০ বছর বয়সী ফাতিমার নিয়োগের মধ্য দিয়ে মরক্কোর ইতিহাসে প্রথম কোনো নারী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন। রাজপ্রাসাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন সরকার গঠনের দায়িত্বও তাকে দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে ফাতিমা জাহরা মানসুরি দুই মেয়াদে মারাকেশের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার চার দিন পর তাকে সরকারপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নির্বাচনে ফাতিমার নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী রাজনৈতিক দল অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (পিএএম) সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে। তবে দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থায় কোনো দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন কঠিন হওয়ায় সরকার গঠনে তাকে বিভিন্ন দলের সঙ্গে জোট করতে হতে পারে।
ফাতিমার নিয়োগের মধ্য দিয়ে আরব বিশ্বে নারী প্রধানমন্ত্রীর সংখ্যা দাঁড়াল দুইয়ে। এর আগে তিউনিসিয়ার নাজলা বাউডেন আরব বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
নতুন সরকারের সামনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন ঘিরে মরক্কোয় সম্ভাব্য বড় বিনিয়োগ ও উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মানুষের আয় বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে সরকারকে।
মরক্কোর সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা রাজার হাতে এবং তিনিই প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন। তবে ২০১১ সালের আরব বসন্তের সময় ব্যাপক বিক্ষোভের পর সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয়। সেই অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের একজন প্রার্থীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিতে হয় রাজাকে।
ফাতিমা জাহরা মানসুরি ২০০৮ সালে ফুয়াদ আলি এল হিম্মার প্রতিষ্ঠিত পিএএমে যোগ দেন। এল হিম্মা রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদের শৈশবের বন্ধু ও ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত। ফ্রান্সের মঁপেলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন ফাতিমা। ২০২৪ সালে তিনি পিএএমের অন্যতম শীর্ষ নেতা হন।
রাজনীতিতে আসার আগে আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন ফাতিমা। তিনি মারাকেশ শহরের বার অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বও দিয়েছেন। মরক্কোর পরিচিত রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা ফাতিমা আবদের রহমান এল মানসুরির মেয়ে। তার বাবা ‘মারাকেশের পাশা’ নামে পরিচিত ছিলেন।