প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৩ পিএম (ভিজিট : ৫৮)

সংগৃহীত ছবি
মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল পাওয়ার ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের জরুরি নির্দেশনায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জানতে পারেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। পরে তিনি ভুক্তভোগী গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেন। মন্ত্রী জানান, বিলটি সংশোধন করে সঠিক বিল ইতোমধ্যে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা হলে সরাসরি কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্যও তিনি অনুরোধ করেন।
মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের ওই বিল ইস্যু করা হয়। তিনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। অস্বাভাবিক বিলের বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
বিলের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর মিটারের বর্তমান রিডিং ছিল ৩৯৫ এবং ৮ আগস্টের পূর্ববর্তী রিডিং ১৬০। অর্থাৎ এক মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট। এর বিপরীতে স্বাভাবিক বিলের সঙ্গে ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয় ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট ও ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করে মোট বিল দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।
নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ এর পরিমাণ দাঁড়ানোর কথা ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা। অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের প্রকৃত বিল হওয়ার কথা ১ হাজার ৯৬৩ টাকা, যা বিলম্ব মাশুলসহ ২ হাজার ৫৬ টাকা।
গত ১০ সেপ্টেম্বর বিলটি ইস্যু করা হয় এবং পরিশোধের শেষ তারিখ ছিল ২৯ সেপ্টেম্বর। এতে গ্রাহকের শ্রেণি হিসেবে ‘এলটি-এ (আবাসিক)’ উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুন বলেন, এটি শুধু ‘ভুতুড়ে বিল’ নয়, ‘আজগুবি’ও। বিদ্যুৎ বিভাগের এ ধরনের ভুলের কারণে গ্রাহকদের দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তি বাড়ছে। তিনি এ ধরনের ভুলের প্রতিকার দাবি করেন।
মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি জানান, গ্রাহকের মিটার পরিবর্তনের সময় ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যাওয়ায় অস্বাভাবিক বিলটি তৈরি হয়েছিল।