
সংগৃহীত ছবি
গোপনে বিয়ে করা কিংবা লোকচক্ষুর আড়ালে আকদ সম্পন্ন করা নিয়ে সমাজে নানা ধরনের আলোচনা ও বিভ্রান্তি রয়েছে। পরিবার বা সমাজকে না জানিয়ে বিয়ে করলে তা ইসলামে গ্রহণযোগ্য কি না, নাকি মাকরুহ বা নাজায়েজ এমন প্রশ্নও অনেকের মনে আসে। এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়ত ও ফকীহদের মতামতে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা।
ইসলামে বিয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো একটি নতুন পরিবারের সূচনা এবং ব্যভিচার থেকে বিরত থাকা। এ কারণে বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে ঘোষণা করা ও সামাজিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ করো এবং তা মসজিদে সম্পন্ন করো।’ (তিরমিজি)
অন্য একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হালাল বিয়ে ও হারাম সম্পর্কের মধ্যে পার্থক্য হলো বিয়ের ঘোষণা দেওয়া এবং দফ বাজানো।
তবে গোপন বিয়ের বিধান নিয়ে ইসলামি আইনজ্ঞদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। যদি দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়, কিন্তু তাঁদের কাছ থেকে বিয়ের বিষয়টি অন্য কারও কাছে প্রকাশ না করার অঙ্গীকার নেওয়া হয়, তাহলে এমন বিয়ের বৈধতা নিয়ে ফকীহদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা যায়।
ইসলামি আইনজ্ঞদের মতে, বিয়েতে সাক্ষী রাখার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা এবং উভয় পক্ষের অধিকার সুরক্ষিত রাখা। এতে সামাজিকভাবে অযাচিত সন্দেহ ও বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কমে এবং বৈধ সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
জামিয়া আল-আজহারের সাবেক গ্র্যান্ড ইমাম শায়খ মাহমুদ শালতুত (রহ.) গোপন বিয়ের বিধান সম্পর্কে বলেন, বিয়ের সময় দুজন সাক্ষী উপস্থিত থাকলেও তাঁদের কাছ থেকে যদি কঠোরভাবে গোপন রাখার অঙ্গীকার নেওয়া হয়, তাহলে এ ধরনের বিয়েকে সব ফকীহ অপছন্দনীয় বা মাকরুহ মনে করেন। তবে এর বৈধতা নিয়ে তাঁদের মধ্যে দুটি মত রয়েছে।
একদল ফকীহর মতে, বিয়েতে দুজন সাক্ষী উপস্থিত থাকলে তা আর পুরোপুরি গোপন থাকে না এবং বিয়ে বৈধ হিসেবে গণ্য হয়। পরবর্তী সময়ে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখার অনুরোধ বা পরামর্শ বিয়ের বৈধতাকে প্রভাবিত করে না।
অন্যদিকে ইমাম মালেক (রহ.)-সহ আরেকদল ফকীহ মনে করেন, বিয়ের খবর গোপন রাখার শর্ত বা সমঝোতা সাক্ষী রাখার মূল উদ্দেশ্যকেই ব্যাহত করে। তাঁদের মতে, বিয়েতে সাক্ষী রাখার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো এর ঘোষণা ও প্রচার নিশ্চিত করা, যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষিত থাকে এবং সমাজে সন্দেহ-সংশয়ের অবকাশ না থাকে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হালাল ও হারামের পার্থক্য হলো দফ বাজানো ও উচ্চস্বরে বিবাহের ঘোষণা দেওয়া।’
সুতরাং, গোপন বিয়ের বৈধতা নিয়ে ফকীহদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে ঘোষণা দেওয়ার ব্যাপারে ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।