প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৭ পিএম (ভিজিট : ১১৫)

সংগৃহীত ছবি
সংকটে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংকের তারল্যসংকট মোকাবিলা ও আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রমে সহায়তা করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে ৭ হাজার কোটি টাকা ফান্ড প্লেসমেন্টের উদ্যোগ নিয়েছে সোনালী ব্যাংক। তিন মাস মেয়াদি এই অর্থায়নের মাধ্যমে ব্যাংকটির আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠার প্রচেষ্টা জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শওকত আলী খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে অর্থ দেওয়া হবে বলে সোনালী ব্যাংকের ঝুঁকি নেই বলে মনে করেন তিনি। এর আগেও এ ধরনের কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে সোনালী ব্যাংক। দু-একটি ব্যাংক অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক সেই অর্থ পরিশোধ করেছে বলে জানান তিনি।
ন্যাশনাল ব্যাংক ১০ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চেয়ে সোনালী ব্যাংককে চিঠি দিয়েছিল। তবে সোনালী ব্যাংক সাত হাজার কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে ন্যাশনাল ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ২০ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছিল। তবে টাকা ছাপিয়ে আর কোনো ব্যাংককে সহায়তা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ন্যাশনাল ব্যাংক গত রোববার থেকে আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনের আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে। আবেদন গ্রহণ চলবে আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত। এরপর বৃহস্পতিবার থেকে গ্রাহকেরা তাঁদের আমানতের অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।
ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে ব্যাংকটির সব শাখা ও এটিএম চালু করা হবে। ২০ অক্টোবর থেকে আবেদন ছাড়াই সব গ্রাহক টাকা ফেরত পাবেন বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, এখন পর্যন্ত টাকা উত্তোলনের জন্য খুব বেশি আবেদন জমা পড়েনি।
মেলিতা মেহজাবীন আরও বলেন, গ্রাহকদের অর্থের চাহিদা ও প্রয়োজনীয় তহবিল ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। তবে প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অতীতে অনিয়ম ও ঋণ বিতরণে অনিয়মের কারণে সংকটে পড়া ন্যাশনাল ব্যাংককে পুনরুদ্ধারের সুযোগ করে দিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ব্যাংকটির নিজস্ব তহবিল থেকে আমানতকারীদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।