প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৭ পিএম (ভিজিট : ১০৯)

প্রতীকী ছবি
বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়ে ১১৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৪৯৮ কোটি মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) আগের প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) তুলনায় দেশের বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনের শেষে সরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ১০ বিলিয়ন বা ৯ হাজার ৫১০ কোটি ডলারে। আগের প্রান্তিকের শেষে এ ঋণের পরিমাণ ছিল ৯০ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে সরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ৪১৯ কোটি ডলার।
অন্যদিকে, একই সময়ে বেসরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। গত মার্চের শেষে এ খাতের ঋণ ছিল ২০ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার। জুনের শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৯৮৮ কোটি ডলারে। ফলে তিন মাসে বেসরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণ কমেছে ১৪ কোটি ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুনের শেষে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের ৮৭ দশমিক ৫২ শতাংশই ছিল দীর্ঘমেয়াদি। এর পরিমাণ ১০০ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ১৪ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার।
ঋণদাতার ধরন বিবেচনায়, জুনের শেষে বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থাগুলোর কাছ থেকে নেওয়া বাংলাদেশের ঋণের পরিমাণ ছিল ৪৮ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। দ্বিপক্ষীয় ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলারে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বেসরকারি খাতের স্বল্পমেয়াদি ঋণ, ক্রেতাঋণ বা বায়ার্স ক্রেডিট এবং বাণিজ্যঋণের পরিমাণ কমে যাওয়ায় এ খাতের মোট বৈদেশিক ঋণ হ্রাস পেয়েছে। বিপরীতে, আলোচ্য সময়ে সরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক ঋণের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে।