প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম (ভিজিট : ৫৬)

সংগৃহীত ছবি
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারের (৭৮) শেষ বিদায়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানী ঢাকায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
আব্দুস সাত্তার দীর্ঘ কর্মজীবনে যোগাযোগ ও আইন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। জীবনের শেষ দিনগুলো তিনি ঢাকায় ছেলের সঙ্গে কাটাচ্ছিলেন।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় প্রথম জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়নের মহালক্ষ্মীপাড়া গ্রামে নেওয়া হয়। তবে মরদেহ গ্রামে পৌঁছাতে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা বেজে যাওয়ায় গার্ড অব অনার ছাড়াই তাঁকে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। মরহুমের ভাই শাহজাহান আক্ষেপ করে বলেন, তাঁরা চেয়েছিলেন শেষ সম্মান জানিয়ে ভাইকে বিদায় দিতে। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। নয় মাস অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা একজন মুক্তিযোদ্ধা তাঁর প্রাপ্য সম্মানটুকু না পাওয়ায় তাঁরা লজ্জিত।
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মোল্লাও এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব না হলেও প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি এসে অন্তত শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারতেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সহযোদ্ধার এমন অমর্যাদা মেনে নেওয়া কঠিন।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইদ্রিস মিয়া মাস্টার জানান, গার্ড অব অনার ও সশস্ত্র সালামের জন্য তাঁরা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করেছিলেন। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম তাঁদের জানিয়েছিলেন, সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়ার নিয়ম নেই।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হক বলেন, তিনি মরহুমের জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। গার্ড অব অনার না দেওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র সমালোচনা চলছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।
অন্যদিকে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন জানান, গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য পুলিশের একটি পিকআপ পাঠানো হয়েছিল। পাশাপাশি পুলিশ লাইন থেকে বিউগলের সুর বাজানোর দলও এসেছিল। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় পুলিশ এককভাবে গার্ড অব অনার দিতে পারেনি। তবে পুলিশের সদস্যরা জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নী ইসলাম বলেন, সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া হয় না। এরপরও তাঁরা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তবে ঢাকা থেকে মরদেহ আনা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল। মাগরিবের পর কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ না করায় গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব হয়নি।