
সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘ ২০ বছর পর বাগেরহাটে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ৫ নভেম্বর বাগেরহাটে গিয়ে হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে বাগেরহাটজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বিশেষ করে বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উচ্ছ্বাস। শহরের বিভিন্ন এলাকায় চলছে প্রচার-প্রচারণা ও সফর ঘিরে প্রস্তুতি।
এর আগে ২০০৬ সালে বাগেরহাটের খানজাহান আলী কলেজ মাঠে ছাত্রদলের তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন তারেক রহমান। সে সময় তার মা বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে ওই সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক সাংগঠনিক সফর করেন তিনি। বাগেরহাট সফরেও ছাত্রদলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন তারেক রহমান।
পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ প্রবাসজীবনে চলে যান তিনি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়। পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক ও রাষ্ট্রীয় সফরের ধারাবাহিকতায় এবার বাগেরহাটে যাচ্ছেন তিনি।
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে বাগেরহাট শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জেলা ছাত্রদল, যুবদলসহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে লিফলেট বিতরণ, আনন্দ মিছিল ও প্রচার-প্রচারণা চলছে। একইভাবে জেলা যুবদলের নেতাকর্মীরাও আনন্দ মিছিল ও গণসংযোগের মাধ্যমে সফরকে স্বাগত জানাচ্ছেন।
এদিকে জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মো. জাকির হোসেনের পক্ষ থেকেও সাধারণ মানুষের কাছে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের বার্তা পৌঁছে দিতে পৃথক টিম কাজ করছে।
জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লা বলেন, ২১ বছর আগে খানজাহান আলী কলেজ মাঠে তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলনে তারেক রহমানের খুব কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল তার। দীর্ঘ সময় পর আবারও তিনি বাগেরহাটে আসছেন, যা তাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। তার আগমনকে ঘিরে যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মো. জাকির হোসেন বলেন, তারেক রহমান শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি দলের অভিভাবকও। তার আগমনকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। তার আগমনকে ঘিরে পুরো বাগেরহাট জনস্রোতে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আতিকুর রহমান রাসেল বলেন, তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল অতীতের মতোই ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচার-প্রচারণা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সফর সফল করতে তারা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আল মামুন বলেন, সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বাগেরহাট শহর নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করছেন তারা।