বুধবার ● ৪ নভেম্বর ২০২৬ ● ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

শিরোনাম: সখিপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে চারজন গ্রেপ্তার   চাঁপাইনবাবগঞ্জে সংকটে সংবাদপত্র বিক্রেতারা, অনিশ্চয়তায় জীবিকা   ঈশ্বরগঞ্জে জমির সীমানা খুঁটী সরিয়ে ফেলার অভিযোগ   মিশিগান সিনেটে জয়ী আব্দুল এল-সাঈদ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর   লাভজনক হওয়ায় তুলাচাষে ঝুঁকছেন যশোরের কৃষকেরা    ​সুন্দরবনের খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকারের মহোৎসব   লোহাগড়ায় গাছের চারা রোপন নিয়ে বাকবিতন্ডায় ধারালো অস্ত্রের কোপে বৃদ্ধ খুন   
আমদানি নির্ভরতা কমাতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২৩লাখ বেল
লাভজনক হওয়ায় তুলাচাষে ঝুঁকছেন যশোরের কৃষকেরা
আঁশতুলা আবাদে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
রফিকুল ইসলাম, ঝিকরগাছা প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৯ পিএম   (ভিজিট : ৪৬)

দেশের বস্ত্রশিল্পের অন্যতম কাঁচামাল আঁশতুলা। যার সিংহভাগ আমদানি নির্ভর। দেশের বস্ত্রখাতে চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমাতে তাই সরকার তুলাচাষে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৫০ সালের মধ্যে আঁশতুলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ১৯লাখ বেল।পরিকল্পনা অনুযায়ী তুলার জমির আওতা বাড়িয়ে ২ লাখ হেক্টরে উন্নীত করে ২০৩০সালে ৫ লাখ বেল, ২০৪০সালে ১০লাখ বেল ও ২০৫০সালের মধ্যে ১৯লাখ বেল আঁশতুলার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে বছরে  দেশে মোট চাহিদার ১৬লাখ বেল তুলার বিপরীতে স্থানীয় উৎপাদন থেকে ১৮থেকে ২০শতাংশ চাহিদা পূরণ হচ্ছে। 

পরিকল্পনা মাফিক তুলার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে বছরে বস্ত্রখাতে সাশ্রয় হবে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

তুলা উন্নয়ন বোর্ড (সিডিবি)'র নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিমের দেয়া তথ্য মতে, বর্তমানে দেশের ৩৯টি জেলা ও  ১৩২টি উপজেলায় উফশী ও পাহাড়ি জাতের তুলার উৎপাদন হচ্ছে। এরমধ্যে ৬৯শতাংশ জমিতে উফশী ও ৩১শতাংশ জমিতে পাহাড়ি তুলার চাষ হচ্ছে। প্রায় ৪৮হাজার হেক্টর জমিতে বছরে প্রায় ২লাখ ২৪হাজার বেল তুলা উৎপাদিত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

এদিকে যশোরের ঝিকরগাছা,চৌগাছা,শার্শা, মনিরামপুর, কেশবপুর উপজেলায় চলতি উৎপাদন মৌসুমে আঁশতুলা আবাদে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। 
মাঠের পর মাঠ জুড়ে এখন যেন সবুজের সমারোহ। 

সম্ভাবনার পালক মেলেছে একের পর এক তুলা ক্ষেত। প্রতিটি তুলা ক্ষেতে ফুল ও ফলের আধিক্য চোঁখে পড়ার মতো। স্বপ্নআঁকা কৃষকদের চোঁখে মুখে তাই খুশির ঝিলিক!

জানা গেছে,অন্যান্য কৃষি আবাদের তুলনায় আঁশতুলা আবাদ লাভজনক হওয়ায় কৃষকেরা তাই ঝুঁকছেন অর্থকরী ফসল তুলার দিকে। যার আবাদ এক সময় হারাতে বসেছিল। তা আবার ফিরে আসতে চলেছে। এমন সম্ভাবনার কথা জানালেন তুলাচাষের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও এতদাঞ্চলের বিপুল সংখ্যক তুলাচাষিরা।
বর্তমানে দেশের ৫০টির বেশি জেলায় আঁশতুলা চাষ হচ্ছে। 

যশোরের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমান জানান, এবছর ব্যাপকভিত্তিক তুলা চাষের জমির আওতা বাড়ানো হয়েছে। উৎপাদনও অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তিনি জানান, ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসাড়া ইউনিয়নের রঘুনাথ নগর ও বর্ণি ব্লকের আওতায় প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে তুলার আবাদ হয়েছে। যশোর এয়ারপোর্ট রোডে ২০০ বিঘা জমিতে তুলার আবাদ করা হয়েছে। তিনি বলেন,আমরা আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সাথে তুলা চাষের বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি আগামী বছর   আরো কয়েকশ একর জমিতে আমরা তুলা চাষের সম্প্রসারণ ঘটাতে পারবো। 

তিনি আরো বলেন, আমরা ঝিকরগাছা উপজেলাকে তুলা চাষের ব্যাপারে বেশি প্রাধান্য দেই। কারণ, এখানকার কৃষকেরা অনেক আগে থেকেই তুলা চাষের সাথে জড়িত। 
কৃষকদের প্রণোদনা বাড়ানোর দাবি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তুলা চাষ বৃদ্ধিতে কৃষকদের প্রণোদনা বৃদ্ধির বিষয়টি আমাদের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। 
বাংলাদেশ কটন জিনার্স এসোসিয়েশন যশোর জোনের প্রতিনিধি মো: তারেক রেজা পলাশ বলেন, এবছর তুলা চাষে অভাবনীয় সফলতা আসতে চলেছে। প্রাকৃতিক কোন বড় ধরনের দুর্যোগ না হলে আশা করা যায় গোটা যশোর অঞ্চলের তুলা চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। 

ঝিকরগাছা ইউনিট ০১ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: অহিদুজ্জামান বলেন, তার ব্লকে ৩২০জন তুলা চাষী সরকারি প্রণোদনার তালিকাভুক্ত। তাদেরকে উন্নত মানের তুলা বীজ বিঘা প্রতি ৬০০গ্রাম, ২৫কেজি ইউরিয়া, ৫০কেজি টিএসপি,৫০কেজি পটাশসহ অন্যান্য উপকরণ দেয়া হচ্ছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তুলা চাষীদের প্রণোদনা বাড়ানোর দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা। 

জানা গেছে, ১৯৮০সালের ২০নভেম্বর যশোরের চৌগাছা উপজেলার জগদীশপুরে "কটন রিসার্চ সেন্টার এন্ড সিড ফার্ম"প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপট থেকে  যশোর অঞ্চলে তুলা চাষের আনুষ্ঠানিক যাত্রা। লাভজনক হওয়ায় মাত্র কয়েক বছরে তুলাচাষের ব্যাপক বিস্তার ঘটে। কৃষিতে আসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। কিন্তু,কৃষকের সেই রক্তঘামে অর্জিত উৎপাদিত তুলার ন্যায্যমূল্য না পাওয়া,সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মধ্যস্বত্ব ভোগীদের দৌরাত্ম্য, বাজার নিয়ন্ত্রণ,সরকারি ক্রয় কেন্দ্র কৃষকের বিক্রয়কৃত তুলার বকেয়া মাসের পর মাস আটকে থাকা,দুর্নীতি-অনিয়মের বেড়াজালে আটকে পড়ে অমিত সম্ভাবনার এই তুলার সেক্টর। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মুখ থুবড়ে পড়ে সম্ভাবনার এই কৃষি খাতটি। যার সাথে আমাদের বস্ত্র শিল্পের নিবিড় সম্পর্কযুক্ত। 

বর্তমানে তুলা চাষে কৃষকদের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টির কারণ হলো আগের বাজারব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সরাসরি সরকারি ব্যবস্থাপনায় তুলা বিক্রির সুযোগ তৈরি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আস্থা বেড়েছে।

তাছাড়া কোন মধ্যস্বত্ব ভোগী ছাড়াই মাঠ পর্যায়ে কৃষকের সুবিধাজনক স্থানে তুলা ক্রয়ের ব্যবস্থা থাকায় পরিবহন খরচ,সময় ও ভোগান্তি কমছে।
এছাড়া তুলার গুণগত মান বৃদ্ধিতে উন্নত বীজ, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় পরামর্শের ফলে তুলার গুণগত মান বৃদ্ধির বিষয়ে কৃষকরা উৎসাহিত হচ্ছেন।
অন্যদিকে সরাসরি বেসরকারি প্রশিক্ষণ,তুলা চাষের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার,রোগবালাই ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সরাসরি প্রশিক্ষণ কৃষকদের দক্ষতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

অপরদিকে সরকারি প্রণোদনা,সরাসরি তুলা বিক্রির সুযোগ,কৃষকবান্ধব ক্রয়ব্যবস্থা এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার কারণে যশোর জোনে তুলা চাষের প্রতি কৃষকদের ক্রমান্বয়ে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে তুলা চাষের পরিধি আরও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।তুলা চাষে উৎসাহিত করতে সরকার কর্তৃক তুলা চাষীদের মাঝে প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে। জানাগেছে,প্রণোদনার আওতায় বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের ঝিকরগাছা ইউনিট ০১'র আওতায় সরকারি প্রণোদনা রয়েছে ৩২০ ও ০২'র আওতায় ৩৭০টি,শার্শার 

উলাশী ইউনিটের আওতায় ২০০টি ও ১০০টি
চৌগাছা ৩৮০টি,হাকিমপুর ১৫০টি,যশোর সদর ২৩০টি,মনিরামপুরে ১০০টি,ঝাপা ২৫০টি,পুড়োপাড়া ৫০টি,রাজগঞ্জ ৫০টি কেশবপুর ২৫০টি, বারোবাজার ৩৫০টি, খাজুরা ১৫০টি,কালিগঞ্জ  ৫০টি।সর্বমোট প্রণোদনা ৩হাজারটি। 

তুলাচাষীদের মতে, প্রতি বিঘা তুলার উৎপাদন খরচ দাঁড়ায় ১০/১২হাজার টাকা। গড় উৎপাদন প্রতি বিঘায় ১৩ থেকে ১৫মণ। গতবছর প্রতিমণ তুলার দাম ছিল ৩হাজার ৮'শথেকে ৯'শ টাকা। উৎপাদন খরচ বাদে প্রতি বিঘায় লাভের অংশ দাড়াই ৩৫থেকে ৪০হাজার টাকা। এবছর উৎপাদন খরচ তুলনামূলক বেশি। তাই, উৎপাদিত তুলার কাঙ্খিত বাজারদর বা ন্যায্যমূল্য প্রত্যাশা করছেন তুলা চাষিরা। 









  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]