রবিবার ● ১ নভেম্বর ২০২৬ ● ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

শিরোনাম: বাংলাদেশের প্রাচীন গোড় নগরীর ভারতীয় সীমান্তে ইতিহাসের সাক্ষী প্রাচীন    দুবলার চরে শুঁটকি মৌসুম ঘিরে প্রস্তুতি, ঋণ ও বনদস্যুর আতঙ্কে জেলেরা   সখিপুরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মন্ত্রী আহমেদ আযম খান   আত্রাইয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন    এলেঙ্গায় হাইওয়ে পুলিশের অভিযানে চোরাই অটোরিকশাসহ গ্রেপ্তার ৪   ঝিকরগাছায় জাতীয় যুব দিবস উদযাপন   মধ্যপাড়া খনিতে জিটিসি কর্তৃক পাথর উত্তোলনে নতুন মাইলফল!   
জার্মানিতে জেন-জি বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা, ফ্রাঙ্কফুর্টে দোকানপাটে লুটপাট
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২১ এএম   (ভিজিট : ২০)

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

শিক্ষার মানোন্নয়ন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের বিরোধিতায় জার্মানির বিভিন্ন শহরে রাজপথে নেমেছেন হাজারো তরুণ। তবে জেন-জি নেতৃত্বাধীন এ বিক্ষোভে ছড়িয়ে পড়েছে সহিংসতা। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে দেশটির আর্থিক কেন্দ্র ফ্রাঙ্কফুর্টে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি দোকানে লুটপাট ও ভাঙচুর চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ। খবর রয়টার্সের।

বার্তা সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ফ্রাঙ্কফুর্টে অন্তত দুটি দোকানে লুটপাট চালানো হয়েছে। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও কয়েকটি দোকান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশ জানায়, শহরে সহিংসতা চলছে। কেন্দ্রীয় এলাকার কয়েকটি দোকানের জানালা ভাঙচুর করা হয়েছে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের লক্ষ্য করে পেট্রলবোমাও ছোড়া হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকা এড়িয়ে চলার অথবা সেখান থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

জার্মানির ৩৪টি শহরে বিক্ষোভের আয়োজন করে ‘জেন-জি রেগেল্ট’ নামের একটি প্রচারাভিযান গোষ্ঠী। জার্মান ভাষায় এর অর্থ ‘জেন-জিই দায়িত্ব নিচ্ছে’। বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখসহ বড় শহরগুলোতে কর্মসূচি পালিত হয়। বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের বিরোধিতা, শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানো এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমানোর দাবি জানায় সংগঠনটি।

শনিবার বিকেলের হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আয়োজকদের প্রাথমিক প্রত্যাশার চেয়ে কম ছিল। শুরুতে ১ লাখ ৮২ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের আশা করলেও ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ ও বার্লিনে পুলিশের হিসাবে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ ১৮ হাজার। অন্যদিকে, আয়োজকদের ওয়েবসাইটে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৩৬ হাজার বলে উল্লেখ করা হয়।

জার্মান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হ্যালোইন উৎসবের সঙ্গে একই সময়ে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভগুলো দিনের বেশির ভাগ সময় শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলো আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা। হামবুর্গে কয়েকটি ব্যারিকেডে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

শনিবার বার্লিনের এক সমাবেশে ‘জেন-জি রেগেল্ট’এর মুখপাত্র লিনা ফ্রিডরিখ বলেন, যুদ্ধ ও জবরদস্তির পরিবর্তে শান্তি ও স্বাধীনতার দাবিতে তারা রাজপথে নেমেছেন। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে আরও সহায়তা নিশ্চিত করা তাদের প্রধান দাবি। বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের বিরোধিতা করার পাশাপাশি সমাজের সবার মধ্যে দায়িত্বের বোঝা ন্যায্যভাবে বণ্টনের আহ্বান জানান তিনি।

জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির উগ্র বামপন্থি গোষ্ঠীগুলোর একাংশ এবং বিদেশি উগ্রপন্থি আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংগঠন বিক্ষোভে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেছে।

হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোসেক বলেন, ফ্রান্সের সাম্প্রতিক বিক্ষোভে দোকানপাট লুট, বাড়িঘর ও পুলিশের গাড়িতে আগুন এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা সবার মনে রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিকে জার্মানির জন্য আদর্শ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কায় জার্মানির বিভিন্ন শহরের কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আগেভাগেই দোকানের জানালা বন্ধ করে দেয় এবং নির্ধারিত সময়ের আগে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে। বার্লিনের অভিজাত কুরফুরস্টেনডাম শপিং বুলেভার্ডের কয়েকটি দোকানও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়।

### অর্থনৈতিক চাপ ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তরুণদের ক্ষোভ

ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে তরুণ প্রজন্মের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের বিষয়টি সামনে আনছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের অভিযোগ, সরকার তাদের উদ্বেগের যথাযথ সমাধান করছে না। বরং ব্যয় সংকোচনের পাশাপাশি তরুণদের ওপর নতুন চাপ তৈরি করা হচ্ছে।

মিউনিখের সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল ১৮ বছর বয়সী স্টিভের। চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তাদের উদ্বেগের জবাবে সরকার ব্যয় কমানো এবং আরও বোঝা চাপানো ছাড়া কিছুই করছে না। দাবি উপেক্ষা করা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সমাবেশ করার সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ অব্যাহত রাখবেন তারা।

জার্মানির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারেও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একই সঙ্গে অবসর গ্রহণকারী বেবি বুমার প্রজন্মের সংখ্যা বাড়ছে এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কমছে। ফলে পেনশন ও সরকারি সেবার ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

তবে ‘জেন-জি রেগেল্ট’ আন্দোলনটি প্রকৃত অর্থেই তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনের অংশগ্রহণ থাকায় আন্দোলনের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। জার্মানির জাতীয় স্কুল শিক্ষার্থী সংগঠন বিএসকে এ উদ্যোগ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। সংগঠনটি আগামী ২০ নভেম্বর আলাদা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করেছে।

এদিকে, বার্লিনের টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী শন বেকার ক্যাম্পাসের জরাজীর্ণ ভবনগুলোর অবস্থা তুলে ধরতে শনিবারের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রয়টার্সকে তিনি বলেন, ভবনের ভেতরের কক্ষগুলো দেখে মনে হয়, সেগুলো পরিত্যক্ত। অথচ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত সেখানেই পড়াশোনা করতে হয়।

চলতি বছর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জেন-জি নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সার্বিয়ায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে আন্দোলন নির্বাচনের মাধ্যমে দেশটির দীর্ঘদিনের শাসকের ক্ষমতাচ্যুতিতে ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে, ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি সেবার মান নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সহিংসতা ও লুটপাটে রূপ নেয়।









  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]