প্রবাসীদের আইনি সমস্যা ও সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা আদালত গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বিভাগীয় সদর দপ্তরগুলোতে এসব বিশেষায়িত আদালত গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে শ্রমিকদের জন্য শ্রম আদালত ও শ্রম আইন রয়েছে। কিন্তু প্রবাসীরা বিদেশ থেকে দেশে টাকা পাঠানোর পর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সেই অর্থ ফেরত চাইতে গেলে কিংবা সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে বছরের পর বছর মামলা চালাতে হয়। আইনজীবীদের পেছনে অর্থ ব্যয় করতে করতে অনেকের জীবনের দীর্ঘ সময় কেটে যায়।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রবাসীদের জন্য বিশেষ আদালত গঠন করব, বিশেষ করে বিভাগীয় সদর দপ্তরগুলোতে। এসব বিশেষায়িত আদালত প্রবাসীদের সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধসহ বিভিন্ন ধরনের মামলা নিষ্পত্তি করতে পারবে। আমরা এ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি এবং আশা করছি, অচিরেই এর কার্যক্রম শুরু করতে পারব।’
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি শ্রম রপ্তানি উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকেরা অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। কোনো কোনো দেশে অন্য দেশের শ্রমিকদের তুলনায় বাংলাদেশিদের কম পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঁচ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিলের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশটিতে অনেকের ভিসার আবেদনও আটকে রয়েছে। এর একটি কারণ হিসেবে তিনি কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির জমা দেওয়া নথিপত্রে জাল সনদ ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব নথির কিছু সনদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। এমন প্রতিষ্ঠানের সনদও জমা দেওয়া হচ্ছে, বাস্তবে যাদের কোনো অস্তিত্ব নেই।
অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, এ ধরনের ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার সময় এসেছে। এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রবাসী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের আইনি সহায়তার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী শ্রমিক কিংবা তাঁদের সন্তানদের বাংলাদেশে আইনি সহায়তার প্রয়োজন হলে তা নিশ্চিত করতে আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা আইনি সহায়তার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এ জন্য একটি হটলাইনও রয়েছে বলে জানান তিনি।