
সরকারি সম্পত্তি কি কারও ব্যক্তিগত জমিদারি? রাষ্ট্রের জায়গা দখলে রেখে বছরের পর বছর বাণিজ্য, বসবাস ও নানা সুবিধা ভোগের অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজারে গণপূর্ত বিভাগের একটি জায়গাকে ঘিরে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সম্পর্কে জামাই-শ্বশুর রহিম ও মুফিজ। স্থানীয়দের প্রশ্ন—সরকারি জমিতে প্রায় এক যুগ ধরে ফুলের ব্যবসা চললেও এতদিন কোথায় ছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি? সরকারি সম্পত্তি ব্যবহারের বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে কি না, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, রহিম ও মুফিজ সাতকানিয়া থেকে এসে একসময় গণপূর্ত বিভাগের মালি হিসেবে কাজ করতেন। পরবর্তী সময়ে শহিদ মিনারের পাশে সংশ্লিষ্ট সরকারি জায়গায় ফুলের দোকান গড়ে তুলে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, কোনো নিয়মিত ভাড়া, লিখিত চুক্তি কিংবা সালামি কোন কিছুই ছাড়াই তাঁরা সরকারি জায়গা ব্যবহার করছেন। শুধু ব্যবসা পরিচালনাই নয়, ওই জায়গায় প্রায় এক যুগ ধরে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন মুফিজ।
স্থানীয়দের দাবি, সময়ের সঙ্গে ফুলের ব্যবসা বড় পরিসরে বিস্তৃত হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমানে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে। একসময় মালি হিসেবে কাজ করা ব্যক্তিদের বর্তমান ব্যবসা-বাণিজ্য, দোকানপাট ও গাড়ির মালিকানা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। রহিমের নামে বা নিয়ন্ত্রণে একাধিক দোকান এবং ছয় থেকে সাতটি গাড়ি রয়েছে। এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা ও অর্থের উৎস কি তা নিয়ে গুঞ্জন চলছে আশপাশের ফুল ব্যবসায়ীদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকের দাবি করছেন,, ফুল ব্যবসার আড়ালে বড় কৌশলে কার সাজানো গাড়ি নিয়ে মাদক পাচার করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামলেই সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা ফুলের দোকান এর পেছনে মাদক সেবিরা জড়ো হয়। এর পর গাঁজা,ইয়াবা সেবনসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলে। শুধু তাই নয়, ওই স্থানটি দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পড়ে থাকায় ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দোকানটিকে ঘিরে মাদক বেচাকেনার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। ফলে সরকারি জায়গাটির ব্যবহার, পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একই জায়গায় বাণিজ্য চললেও ভাড়া কিংবা ইজারার অর্থ পরিশোধের কোনো তথ্য তাঁদের জানা নেই। যদি সত্যিই কোনো বৈধ চুক্তি ছাড়া সরকারি জায়গা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাহলে এতদিন ধরে কীভাবে এই কার্যক্রম চলেছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
সরকারি জায়গায় ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে রহিম ও মুফিজের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা বিভিন্ন ব্যক্তিবিশেষ এর পরিচয় তুলে ধরে গণমাধ্যমকে দমিয়ে রাখতে চাই। এছাড়া রহিম বলেন, জেলাপরিষদকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ফুলের বিনিময় ও গণপূর্তে কতিপয় কর্মচারীকে ম্যানেজ করে সরকারি জায়গাটি বাণিজ্যিক ভাবেই ব্যবহার করছে।
সরকার চাইলে তাঁরা জায়গাটি ছেড়ে দেবেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি জায়গায় কোনো বৈধ ইজারা, চুক্তি কিংবা অনুমোদন ছাড়া ব্যবসা পরিচালিত হয়ে থাকলে, এত দিন ধরে তা কীভাবে চলছে?
এ বিষয়ে কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, “তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জায়গায় বাণিজ্য ও বসবাস করে আসছেন। বিষয়টি এখন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এসেছে। এগুলো উচ্ছেদ করে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভাড়া ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।”
এখন দেখার বিষয়—সরকারি জমি কি শেষ পর্যন্ত নিয়মের আওতায় ফিরবে, নাকি বছরের পর বছর ধরে চলা এই বিতর্ক আরও দীর্ঘ হবে?