প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৭ এএম (ভিজিট : ১৪৮)

সংগৃহীত ছবি
চকলেট পছন্দ করেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে ভবিষ্যতে এই জনপ্রিয় খাবার সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। কোকো উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হলে আগামী কয়েক দশকে চকলেটের প্রাপ্যতা নিয়েও তৈরি হতে পারে অনিশ্চয়তা।
আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা অক্সফামের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে কোকো চাষ ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে কোকো চাষের উপযোগী এলাকাগুলোকে বর্তমান অবস্থান থেকে প্রায় এক হাজার ফুট উঁচু পাহাড়ি অঞ্চলে সরিয়ে নিতে হতে পারে। তবে এসব এলাকার উল্লেখযোগ্য অংশ বন্য প্রাণীদের অভয়ারণ্য হিসেবে সংরক্ষিত থাকায় সেখানে চাষাবাদ সম্প্রসারণ কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
কোকোগাছের ভালো বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন আর্দ্র ক্রান্তীয় জলবায়ু এবং প্রায় ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। কিন্তু বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে বাড়ছে খরা ও অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের ঝুঁকি। এতে কোকোগাছের বৃদ্ধি, ফলন এবং সামগ্রিক উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ট্রপিক্যাল অ্যাগ্রিকালচারের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের মোট কোকো উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি আসে ঘানা ও আইভরি কোস্ট থেকে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশ দুটিতে তাপমাত্রা প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। এতে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, পানির সংকট ও অতিরিক্ত গরমের কারণে কোকো উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ববাজারে কোকোর সরবরাহ ও চকলেটের দামের ওপর।