শনিবার ● ১০ অক্টোবর ২০২৬ ● ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

শিরোনাম: প্রয়াত শিক্ষিকা দিপালী মুখার্জির ১২তম প্রয়াণ দিবস আজ   মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভয়, লজ্জা ও কুসংস্কার দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান   বনানীতে শেষ শ্রদ্ধা, বিকেলে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন তৌফিক ইমরোজ খালিদীর   যশোরে দাদার কবরের পাশে দাফন তাজমিনের, হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি পরিবারের   ফুটপাত দখলমুক্তের উদ্যোগ ঘিরে জামায়াত ষড়যন্ত্র করছে: ডিএনসিসি প্রশাসক   মুক্তির সাত দিনেই ৩৮৩ কোটি রুপি আয় ‘দৃশ্যম ৩’-এর   রিয়াদ বিমানবন্দরে তৃতীয় দফায় হামলার দাবি হুতিদের, ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজ   
এক যুগের পঙ্গুত্বে থমকে গেছে থাইংখালী শামসুল সওদাগরের সংগ্রামী জীবন!
মোহাম্মদ শফিক, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৯ পিএম   (ভিজিট : ১১৪)

একসময় শিক্ষা, সমাজ ও রাজনীতির অঙ্গনে সক্রিয় ও পরিচিত মুখ ছিলেন থাইংখালীর শামসুল আলম সওদাগর। শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা,ব্যবসাবাণিজ্য, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং রাজনীতিতে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি ছিলেন পরিচিত ও প্রভাবশালী এক ব্যক্তিত্ব। থাইংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, থাইংখালী দাখিল মাদ্রাসা, কেজি স্কুল, নূরানি মাদ্রাসা ও এতিমখানাসহ বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসার দায়িত্ব ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও তিনি যুক্ত রয়েছেন। শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন এবং পরিচালনায় দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ভূমিকা রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া তাঁর সহযোগিতায় এলাকায় শিক্ষার বিস্তার ঘটেছে। পাশাপাশি এসব শিক্ষা ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে এলাকার কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন বহু নারী-পুরুষ ও তরুণ-তরুণী।
কিন্তু সময়ের ব্যবধানে বদলে গেছে তাঁর জীবনচিত্র। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে হুইলচেয়ারে বন্দি শামসুল সওদাগর। একসময় যিনি মানুষের পাশে ছুটে বেড়াতেন, শিক্ষা ও সমাজের নানা কাজে সক্রিয় ছিলেন, আজ শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনেকটাই ঘর ও হুইলচেয়ারকেন্দ্রিক জীবন কাটাচ্ছেন।

শামসুল সওদাগর ও তাঁর ছেলে মামুনসহ ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, তৎসময়ে মেরুদণ্ডের চিকিৎসাজনিত ভুলের পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। এরপর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক চলাফেরার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন তিনি। দীর্ঘ এক যুগের কাছাকাছি সময় ধরে হুইলচেয়ারই হয়ে উঠেছে তাঁর চলার প্রধান অবলম্বন। বর্তমানে তিনি পঙ্গুত্বে কষ্টে জীবনযাপন করছেন।
শামসুল আলম সওদাগরের জীবনের এই পরিবর্তন শুধু একটি ব্যক্তিগত কষ্টের গল্প নয়; এটি একজন কর্মচঞ্চল মানুষের থমকে যাওয়া জীবনেরও এক বেদনাদায়ক অধ্যায়। 

রাজনীতি ও শিক্ষা বিস্তারে দীর্ঘ পথচলা
শামসুল সওদাগর শুধু থাইংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবেই পরিচিত নন; তিনি পালংখালী ইউনিয়নের একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও সমাজের পরিচিত মুখ হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছেন। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও রয়েছে তাঁর সম্পৃক্ততা।মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে অংশগ্রহণ ছিল তাঁর নিত্যদিনের বিষয়। 

কিন্তু অসুস্থতার পর সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরে যেতে হয় তাঁকে। মানুষের ভিড়, সভা-সমাবেশ কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে সরব উপস্থিতির পরিবর্তে এখন তাঁর সময় কাটে অনেকটাই ঘরকেন্দ্রিক হুইলচেয়ার জীবনে। 

এদিকে একজন অসুস্থ মানুষকে দীর্ঘদিন দেখভাল করা, চিকিৎসা ব্যয় বহন করা এবং মানসিকভাবে পাশে থাকা পরিবারের জন্যও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়েছে। 

শামসুল আলম সওদাগর বলেন, তাঁর শেষ ইচ্ছা খুবই সহজ, কিন্তু গভীর মানবিকতায় ভরা—থাইংখালী দাখিল মাদ্রাসাটিকে সরকারি করে এলাকার অসংখ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে আরও সুন্দর ও নিরাপদ করা। পাশাপাশি, উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে তিনি সরকারি সহায়তা কিংবা কোনো দাতা সংস্থার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। তাঁর এই শেষ ইচ্ছাগুলো পূরণ হলে হয়তো তাঁর জীবনের একটি বড় স্বপ্ন পূর্ণতা পাবে।









  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]