
একসময় শিক্ষা, সমাজ ও রাজনীতির অঙ্গনে সক্রিয় ও পরিচিত মুখ ছিলেন থাইংখালীর শামসুল আলম সওদাগর। শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা,ব্যবসাবাণিজ্য, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং রাজনীতিতে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি ছিলেন পরিচিত ও প্রভাবশালী এক ব্যক্তিত্ব। থাইংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, থাইংখালী দাখিল মাদ্রাসা, কেজি স্কুল, নূরানি মাদ্রাসা ও এতিমখানাসহ বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসার দায়িত্ব ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও তিনি যুক্ত রয়েছেন। শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন এবং পরিচালনায় দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ভূমিকা রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া তাঁর সহযোগিতায় এলাকায় শিক্ষার বিস্তার ঘটেছে। পাশাপাশি এসব শিক্ষা ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে এলাকার কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন বহু নারী-পুরুষ ও তরুণ-তরুণী।
কিন্তু সময়ের ব্যবধানে বদলে গেছে তাঁর জীবনচিত্র। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে হুইলচেয়ারে বন্দি শামসুল সওদাগর। একসময় যিনি মানুষের পাশে ছুটে বেড়াতেন, শিক্ষা ও সমাজের নানা কাজে সক্রিয় ছিলেন, আজ শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনেকটাই ঘর ও হুইলচেয়ারকেন্দ্রিক জীবন কাটাচ্ছেন।
শামসুল সওদাগর ও তাঁর ছেলে মামুনসহ ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, তৎসময়ে মেরুদণ্ডের চিকিৎসাজনিত ভুলের পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। এরপর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক চলাফেরার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন তিনি। দীর্ঘ এক যুগের কাছাকাছি সময় ধরে হুইলচেয়ারই হয়ে উঠেছে তাঁর চলার প্রধান অবলম্বন। বর্তমানে তিনি পঙ্গুত্বে কষ্টে জীবনযাপন করছেন।
শামসুল আলম সওদাগরের জীবনের এই পরিবর্তন শুধু একটি ব্যক্তিগত কষ্টের গল্প নয়; এটি একজন কর্মচঞ্চল মানুষের থমকে যাওয়া জীবনেরও এক বেদনাদায়ক অধ্যায়।
রাজনীতি ও শিক্ষা বিস্তারে দীর্ঘ পথচলা
শামসুল সওদাগর শুধু থাইংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবেই পরিচিত নন; তিনি পালংখালী ইউনিয়নের একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও সমাজের পরিচিত মুখ হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছেন। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও রয়েছে তাঁর সম্পৃক্ততা।মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে অংশগ্রহণ ছিল তাঁর নিত্যদিনের বিষয়।
কিন্তু অসুস্থতার পর সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরে যেতে হয় তাঁকে। মানুষের ভিড়, সভা-সমাবেশ কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে সরব উপস্থিতির পরিবর্তে এখন তাঁর সময় কাটে অনেকটাই ঘরকেন্দ্রিক হুইলচেয়ার জীবনে।
এদিকে একজন অসুস্থ মানুষকে দীর্ঘদিন দেখভাল করা, চিকিৎসা ব্যয় বহন করা এবং মানসিকভাবে পাশে থাকা পরিবারের জন্যও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়েছে।
শামসুল আলম সওদাগর বলেন, তাঁর শেষ ইচ্ছা খুবই সহজ, কিন্তু গভীর মানবিকতায় ভরা—থাইংখালী দাখিল মাদ্রাসাটিকে সরকারি করে এলাকার অসংখ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে আরও সুন্দর ও নিরাপদ করা। পাশাপাশি, উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে তিনি সরকারি সহায়তা কিংবা কোনো দাতা সংস্থার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। তাঁর এই শেষ ইচ্ছাগুলো পূরণ হলে হয়তো তাঁর জীবনের একটি বড় স্বপ্ন পূর্ণতা পাবে।