প্রকাশ: রোববার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:০২ এএম (ভিজিট : ৮৩)

সংগৃহীত ছবি
একদিকে ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার, অন্যদিকে নির্মাণসামগ্রীর লাগামহীন দাম। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মূল্যস্ফীতির চাপ। খাবার, বাসাভাড়া ও চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কমছে মানুষের সঞ্চয়ক্ষমতা। সব মিলিয়ে সংকটে পড়েছে দেশের আবাসন খাত। গত এক বছরে ফ্ল্যাটের বিক্রি কমেছে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ। একই সঙ্গে ঝুঁকিতে পড়েছে এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোর ৫০ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান।
রাজধানী ঢাকায় নিজস্ব একটি ফ্ল্যাটের স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। তবে আড়াই কোটির বেশি জনসংখ্যার এ নগরীতে ৭০ শতাংশের বেশি মানুষের, অর্থাৎ প্রায় দুই কোটি বাসিন্দার নিজস্ব আবাসন নেই। এদের বড় অংশই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য।
ফ্ল্যাট কেনার জন্য বছরের পর বছর ধরে সঞ্চয় করলেও নিত্যপণ্য, বাসাভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা ও চিকিৎসার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অনেকেরই সঞ্চয়ের গতি কমে গেছে। ফলে বড় অঙ্কের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কিংবা উচ্চ সুদে ব্যাংকঋণ নিয়ে ফ্ল্যাট কেনার আগ্রহ হারাচ্ছেন সম্ভাব্য ক্রেতারা।
আবাসন ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী, গত এক বছরে নির্মাণসামগ্রীর দাম ৩১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আর তিন বছরে ফ্ল্যাটের দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত। এর প্রভাবে গত এক বছরে ফ্ল্যাট বিক্রি কমেছে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ। পাশাপাশি গৃহঋণের উচ্চ সুদহারের কারণে চাহিদার তুলনায় আবাসনের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন লাখ ইউনিটে।
রিহ্যাবের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ঢাকার বাইরে কম দামে ফ্ল্যাট তৈরি করে যোগাযোগ ও নাগরিক সুবিধা বাড়াতে পারলে আবাসন খাতের সংকট কাটতে পারে।’
অর্থনীতিবিদ সাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ‘ফ্ল্যাট বিক্রি ও নির্মাণে দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা তৈরি হলে এর প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। তাই কম সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ ও বিশেষ তহবিল গঠন করা দরকার।’
রড, সিমেন্ট ও স্যানিটারিসহ আবাসন খাতের সঙ্গে আড়াইশোর বেশি সহযোগী ও উপশিল্প জড়িত। ফলে মূল খাতের সংকট এসব শিল্পেও প্রভাব ফেলছে। এতে ৫০ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এদিকে, সংকটের মধ্যেও যারা ফ্ল্যাট কিনছেন, তাঁদের কেউ কেউ নির্ধারিত সময়ে ফ্ল্যাট বুঝে না পাওয়া এবং অর্থ পরিশোধের পর প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগ করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, আবাসন খাতে ক্রেতাদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ।