| শিরোনাম: |
প্রতীকী ছবি
লাটভিয়ার জঙ্গলে বাংলাদেশি যুবক সোহেল রানার করুণ মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিদেশে অবস্থানরত মামলার অভিযুক্তদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (NCB)-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের রেড নোটিশ (Red Notice) জারির উদ্যোগ গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় বিচারের মুখোমুখি করার জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে দেশে পলাতক থাকা মামলার অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারেরও দাবি উঠেছে।
বাংলাদেশের স্বনামধন্য শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও লাটভিয়ার জঙ্গলে সোহেল রানার করুণ মৃত্যুর ঘটনাটি উঠে এসেছে। ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছেড়ে যাওয়া সোহেল রানার এমন পরিণতিতে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে গভীর শোক। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একাধিক ব্যক্তি অভিযুক্ত রয়েছেন বলে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি।
মামলার নথি ও ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে সোহাগ সরকার ইতালিতে, নাসির সরকার কাতারে এবং রিয়াদ দেওয়ান দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দেশে ফিরিয়ে এনে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে পরিবার।
ইন্টারপোলের রেড নোটিশের মাধ্যমে আসামিদের ফেরানোর দাবি:
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মামলার অভিযুক্তরা দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাঁদের গ্রেপ্তার ও বিচারপ্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (NCB)-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের কাছে রেড নোটিশ জারির আবেদন করার উদ্যোগ নেওয়া হোক।
পরিবারের প্রত্যাশা, ইন্টারপোলের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তাঁদের দাবি, আন্তর্জাতিক আইনগত সহযোগিতা গ্রহণ করে সোহেল রানার মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
একই সঙ্গে দেশে পলাতক থাকা মামলার আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের মতে, বিদেশে অবস্থানরত অভিযুক্তদের পাশাপাশি দেশের ভেতরে পলাতক ব্যক্তিদেরও বিচারের আওতায় আনা জরুরি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দেশে ফেরে সোহেলের মরদেহ:
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সোহেল রানার মরদেহ গত ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ওইদিনই ঝিনাইদহ জেলার ঝিনাইদহ সদর থানার হলিধানী ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে পুলিশের উপস্থিতিতে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।
স্বজনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে দাফন সম্পন্ন হলেও সোহেল রানার মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় রয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রিয়জনকে হারিয়ে পরিবারটি অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এখন তাঁদের একমাত্র প্রত্যাশা, মামলার অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, “আমরা আমাদের স্বজনের মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার চাই। বিদেশে অবস্থানরত মামলার অভিযুক্তদের বাংলাদেশ পুলিশের NCB-এর মাধ্যমে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি দেশে পলাতক থাকা আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। বাংলাদেশ সরকার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কার্যকর সহযোগিতা চাই।”
পরিবারের প্রত্যাশা, বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ, বাংলাদেশ পুলিশের আন্তর্জাতিক সমন্বয় এবং ইন্টারপোলের সহযোগিতায় বিদেশে অবস্থানরত মামলার অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে সোহেল রানার মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে।
সোহেল রানার মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত, মামলার সব অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।