
সংগৃহীত ছবি
পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে বন্ধ কারখানাগুলো খুলে দিয়ে উৎপাদন স্বাভাবিক করতে মালিকদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সরকার, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত জরুরি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমিন, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমইএর প্রতিনিধি এবং শ্রমিকনেতারা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রমমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের লক্ষ্যে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডে আলোচনার ভিত্তিতে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মালিক ও শ্রমিক—উভয় পক্ষই বোর্ডের সুপারিশ মেনে নেবে বলে তাকে আশ্বস্ত করেছে।
শ্রমিক আন্দোলনে নিহত ব্যক্তির পরিবারের পাশে সরকার রয়েছে জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এবং মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আপাতত নিহত শ্রমিকের পরিবারকে এক লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও পরিবারটিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শ্রমিকদের জন্য গাজীপুরের টঙ্গীতে ১০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন বলেও জানান শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, বুধবারই এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়া গেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতাল নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
শ্রমিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, দাবি-দাওয়া থাকতেই পারে। তবে তা আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। শ্রমিক নেতাদের মাধ্যমে লিখিতভাবে দাবি জানাতে হবে। সরকার সাড়া না দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কোনো আবেদন বা আলোচনা ছাড়াই রাস্তায় নেমে আসার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, শিল্পকারখানা চালু থাকলে উৎপাদন ও আয় বাড়বে। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির সম্ভাবনাও বাড়বে। এ কারণে শ্রমিক নেতাদের নিজ নিজ কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের কাজে ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়ে মালিকদের উদ্দেশে শ্রমমন্ত্রী বলেন, যেসব মালিক কারখানা বন্ধ রেখেছেন, তারা যেন দ্রুত সেগুলো খুলে দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
শ্রম অসন্তোষের পেছনে শিল্প খাতকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, যারা দেশের শিল্পকারখানা ধ্বংস করতে চায় এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পকে অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে চায়, তাদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের অগ্রগতি তুলে ধরে শ্রমমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর রবিবার দুপুর ১২টার আগেই বোর্ড গঠন করা হয়েছে। একই দিন সন্ধ্যায় এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়। এরপরও নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তবে সরকার কাজ বন্ধ রাখেনি। বোর্ড গঠনের তিন দিনের মাথায় বুধবার বৈঠক হয়েছে এবং চার দিনের মাথায় আবারও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করে দ্রুত সব কারখানায় উৎপাদন শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন শ্রমমন্ত্রী।