প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৪ এএম (ভিজিট : ৩৮)

সংগৃহীত ছবি
তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সরকার নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের পর অনেক কারখানার শ্রমিক কাজে ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তবে শ্রমিকদের কাজে যোগদানে বাধা সৃষ্টি করে একটি পক্ষ শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ধরনের ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালায় যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, শ্রমিকদের দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে তাদের মজুরি নির্ধারণ করা। সরকার সেই দাবি বিবেচনায় নিয়ে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এরই মধ্যে মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, বিষয়টি শ্রমিকরাও জানেন। বোর্ড গঠনের পর অনেক পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু একটি পক্ষ শ্রমিকদের কাজে ফিরতে বাধা দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ডে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে। তারা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয়ও তুলে ধরছেন। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
শ্রমিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকরা নিজেদের স্বার্থের বিষয়টি উপলব্ধি করেই কারখানায় ফিরে গেছেন। তারা বুঝতে পেরেছেন, যে মেশিন চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন, সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে শেষ পর্যন্ত তাদেরই ক্ষতি হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি থাকবে, পাশাপাশি তারা কাজ করবেন এবং উৎপাদন অব্যাহত রাখবেন এটাই স্বাভাবিক।
গত ১৭ বছরে দেশের জনগণের ওপর ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতন, গুম ও খুনের প্রসঙ্গ তুলে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তারা এখন বিদেশে বসে ষড়যন্ত্র করছে। এসব ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সাময়িকভাবে কিছু কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করা গেলেও শেষ পর্যন্ত সফল হওয়া সম্ভব নয়। ৫ আগস্ট যেভাবে তারা পালিয়ে গেছে, ভবিষ্যতেও তাদের ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হতে হবে। জাতি তাদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
এ সময় ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক এবং ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ উপস্থিত ছিলেন।