
সংগৃহীত ছবি
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
হানিফ ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। চার আসামিই বর্তমানে পলাতক। তাঁদের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম জানিয়েছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এর আগে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই ধরনের অপরাধের অভিযোগে এ মামলায় হানিফসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধেও সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হানিফ দলটির বিভিন্ন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রেখেছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলন দমনে উসকানি ও সহযোগিতার পাশাপাশি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের দমনের চেষ্টা করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষের।
প্রসিকিউটর তামীমের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলন দমনসংক্রান্ত টেলিফোনে কথোপকথনের তথ্য, বিভিন্ন নথি এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগকে ব্যবহার করার বিষয়ে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্যসংবলিত একটি বৈঠকে উপস্থিত থেকে আসামিরা ওই অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।
দ্বিতীয় অভিযোগে ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে ছাত্র-জনতাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া এবং এ-সংক্রান্ত ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তৃতীয় অভিযোগটি কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় আসামিদের সংশ্লিষ্টতা ও দায় নিয়ে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে দেওয়া বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী বলেছিলেন, আন্দোলন দমনে তাঁদের নেতা হানিফের নির্দেশনা রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্কে এ বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়াও মোট ১৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। গত ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম। পরে ৭ অক্টোবর আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন যুক্তি তুলে ধরেন। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ রাখেন।
এর আগে গত ১০ জুনও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপক্ষ অতিরিক্ত প্রমাণাদি দাখিল করায় নতুন করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের প্রয়োজন হয়। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর রায় ঘোষণার নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলাটি করা হয়। গত বছরের ৬ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। পরে একই বছরের ২ নভেম্বর হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।