রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের মামলা: রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১০ পিএম (ভিজিট : ৪৮)
সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর পল্লবী থানায় রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
Save
কারাগারে পাঠানো দুই আসামি হলেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল বিজয় দেবাশীষ নারায়ন পাল (৪৭) ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা (৪৩)।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, চার দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার পুলিশ তাঁদের আদালতে হাজির করে। এ সময় মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান তদন্ত কর্মকর্তা। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ১৩ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম দুই আসামিকে চার দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত এই দুই সেনা কর্মকর্তা ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টার্স আলফা নাম্বার ওয়ান’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ওই গ্রুপের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ এবং সহিংসতায় উসকানি দিতে পারে—এমন ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার অ্যান্ড পাবলিক পার্লামেন্ট’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাঁরা সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আবদুল আজিজ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ এবং রাষ্ট্রবিরোধী সংগঠিত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পেজ তৈরি করে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা উসকে দিতে পারে—এমন কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা হচ্ছিল।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১২ অক্টোবর রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলাটি দায়ের করেন গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আলী আকবর। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।