প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৫ পিএম (ভিজিট : ১৫৩)

সংগৃহীত ছবি
রাজশাহীতে জনসভায় যোগ দিয়ে এক ক্লিকেই প্রায় ৩৯ হাজার আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকার সরকারি প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে নগরের ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে জনসভার মঞ্চে বসে ল্যাপটপের বাটন চেপে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যেই কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে প্রণোদনার অর্থ জমা হয়। পরে মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে অর্থ জমার তথ্য জানতে পারেন তাঁরা।
প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রমের প্রথম পর্বে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৩৮ হাজার ৯৭০ কৃষককে ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়া হলো।’ এরপর দেশের ১৫টি চিনিকল এলাকার ১৫ জন আখচাষির হাতে প্রতীকী চেক তুলে দেন তিনি।
প্রণোদনা বিতরণ শেষে জনসভার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়। এ সময় বিএনপির সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতারা বক্তব্য দেন। জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো রাজশাহী সফরে এসেছেন তারেক রহমান। মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে পৌঁছানোর কারণে সফরসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়। ফলে সরাসরি ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠের জনসভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি জনসভাস্থলে পৌঁছান। এতে নগরের গণকপাড়ায় রাজশাহী ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শন ও সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নবিরতির কর্মসূচি বাদ পড়ে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে গত কয়েক দিন ধরে রাজশাহী নগরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিমানবন্দর থেকে তাঁর যাত্রাপথসহ বিভিন্ন সড়কে সংস্কার, পিচ ঢালাই ও রং করার কাজ করা হয়েছে। দেয়ালে আঁকা হয়েছে চিত্রকর্ম, মেরামত করা হয়েছে ড্রেন। যাত্রাপথ পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন করতে বিভিন্ন ফুটপাত থেকে হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়।
জনসভার জন্য ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে তৈরি করা হয় বড় মঞ্চ। মাঠের উঁচু-নিচু অংশ সমান করার কাজও করা হয়। গত কয়েক দিন বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে উপস্থিত থেকে প্রস্তুতির কাজ তদারক করেন।
বিকেলে জনসভা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে তাঁরা জনসভাস্থলে আসেন। দুপুর আড়াইটার মধ্যে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মাঠ পূর্ণ হয়ে যায়। দুপুর থেকেই মঞ্চে বিএনপির জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকেন হাজারো মানুষ। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে মানুষের ঢল নামে। পতাকা হাতে অপেক্ষমাণ মানুষের উচ্ছ্বাস ও নেতাকর্মীদের স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
রাজশিয়া সফর শেষে সামরিক বিমানে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এর আগে মঙ্গলবার সকালে তিনি রংপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন করেন এবং সেখানে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দেন।