
সংগৃহীত ছবি
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে প্রয়োজনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, সরাসরি হামলা হলে রাশিয়া তার হাতে থাকা সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।
ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মস্কোতে ভালদাই ডিসকাশন ক্লাবের বার্ষিক সভায় দেওয়া বক্তব্যে পুতিন এসব কথা বলেন।
রুশ প্রেসিডেন্ট যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের পারমাণবিক সক্ষমতার বিষয়েও রাশিয়া অবগত বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাশিয়াকে এমন একটি শত্রুর মুখোমুখি হতে হবে, যার আকার তাদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তাই নিজেদের সামরিক সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হবে।
তবে পুতিন দাবি করেন, রাশিয়া কাউকে হুমকি দিচ্ছে না। পশ্চিমা নেতারা রাশিয়া ২০২৯ বা ২০৩০ সালে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, মস্কোর বক্তব্য তারই জবাব বলে জানান তিনি।
পুতিনের মন্তব্য এমন এক কূটনৈতিক বার্তার পর এসেছে, যা ন্যাটো চলতি সপ্তাহে রাশিয়ার কাছ থেকে পেয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই বার্তায় সতর্ক করা হয়েছে, ন্যাটো যদি কালিনিনগ্রাদকে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে, তাহলে মস্কো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিতে পারে।
রাশিয়ার বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদ বাল্টিক অঞ্চলে অবস্থিত। মস্কোর অভিযোগ, ন্যাটো অঞ্চলটিকে অবরুদ্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ন্যাটো বলছে, তারা একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট এবং মস্কোকে পারমাণবিক হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
এদিকে ন্যাটোভুক্ত কয়েকটি দেশ রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপজুড়ে অন্তর্ঘাত, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ চালানোর অভিযোগ তুলেছে। পোল্যান্ড ও বাল্টিক অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা বেড়েছে বলেও দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো। রাশিয়া অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
পুতিন ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর জন্যও পশ্চিমাদের দায়ী করেন। তার দাবি, রাশিয়াকে উসকানি দেওয়া হয়েছিল এবং নিজেদের নিরাপত্তার জন্য মস্কোকে সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করা হয়েছে।
ইউক্রেনের অর্থনৈতিক স্থাপনায় রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, রুশ তেল শোধনাগার ও কৃষ্ণসাগরে রুশ জাহাজে ইউক্রেনের হামলার জবাব হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ভালদাই ফোরামে দেওয়া দীর্ঘ বক্তব্যে রুশ প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক সংঘাতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে সতর্ক করেন। তার ভাষায়, কঠোর পাল্টা পদক্ষেপের মাধ্যমে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব, যেখান থেকে পরিস্থিতি আর নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না।
পুতিন আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রধান শক্তিগুলোর হাতে এমন অস্ত্র রয়েছে, যা ব্যাপক ধ্বংস ডেকে আনতে সক্ষম। এসব অস্ত্র কখনো ব্যবহার করা হবে না—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান স্বয়ংক্রিয়ীকরণ ও ডিজিটালাইজেশন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন পুতিন। তার মতে, এর ফলে যুদ্ধ মানুষের কাছে অনেকটা খেলায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে এবং মানবতাকে আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।