শনিবার ● ৩ অক্টোবর ২০২৬ ● ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

শিরোনাম: ঝিকরগাছায় সিরাত মাহফিল (সা:)অনুষ্ঠিত   টাঙ্গাইলে নিষিদ্ধ আ. লীগের নেতাকর্মীরা মাথাচাড়া দিচ্ছে!   রাজধানী গৌড়ের সোনা মসজিদ সুলতানী স্থাপত্যের নিদর্শন   ক্রীড়া ও ব্যবসা অঙ্গনে পরিচিত মুখ হাবিব উল্লাহ ডনকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা   তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির গভীর শোক   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী আর নেই   জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান ডিবি হেফাজতে   
ভারতের ‘নিহত’ দাবির পর জীবিত মুহাম্মদ আসিফকে সংবাদ সম্মেলনে হাজির করল পাকিস্তান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫১ পিএম   (ভিজিট : ৪৫)

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

কাশ্মীরে সংঘর্ষে নিহত হওয়ার ভারতের দাবির পর জীবিত অবস্থায় গণমাধ্যমের সামনে হাজির হয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক সেনাসদস্য হাবিলদার মুহাম্মদ আসিফ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাওয়ালপিন্ডিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করেন পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী।

জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইএসপিআর ডিজি দাবি করেন, ভারত একটি ‘ফলস-ফ্ল্যাগ অপারেশন’-এর মাধ্যমে ঘটনাটি সাজিয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, জম্মু ও কাশ্মীরে একটি সংঘর্ষে সাবেক পাকিস্তানি সেনাসদস্য মুহাম্মদ আসিফ নিহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাকে জীবিত অবস্থায় হাজির করে ওই দাবি অস্বীকার করেছে।

আইএসপিআর ডিজি জানান, ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে ঘটনাটির সূত্রপাত। ওই রাতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি কর্পস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, কোরাগ ও ইউসমার্গ এলাকায় যৌথ তল্লাশি অভিযান চালিয়ে একজন ‘সন্ত্রাসীকে’ নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

এর প্রায় সাত ঘণ্টা পর ভারতীয় সেনাবাহিনীর আরেকটি আপডেটে দাবি করা হয়, পালমাইদান এলাকায় যুদ্ধের সরঞ্জামসহ লস্কর-ই-তইবার সদস্য হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মুসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

এএনআইয়ের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মোহাম্মদ আসিফ ১৯৮০ সালের ৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। ২০০০ সালে তিনি পিএ-৩১০৬৯৪৭ সার্ভিস নম্বরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং হাবিলদার পদ থেকে অবসর নেন। ২০০৫ সালে তিনি স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপে (এসএসজি) যোগ দিয়ে ৪ কমান্ডো ইয়ালগার ব্যাটালিয়নে দায়িত্ব পালন করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ২০০৬ সাল থেকে বেলুচিস্তানে পোস্টিং থাকা অবস্থায় তিনি বেলুচ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে প্রায় ১০টি অভিযানে অংশ নেন এবং ১৩টি হত্যার কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছিল। ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের ভিভিআইপি নিরাপত্তা দলেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে এএনআইয়ের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মুহাম্মদ আসিফকে সামনে এনে আইএসপিআর ডিজি বলেন, উরি, পেহেলগাম ও পুলওয়ামার মতো ঘটনাকে ঘিরে একটি ‘গল্প’ তৈরি করা হচ্ছে। তার দাবি, আসিফকে জীবিত অবস্থায় হাজির করার মধ্য দিয়ে কাশ্মীরে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত করার ভারতীয় বর্ণনার ‘ভিত্তিহীনতা’ প্রকাশ পেয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ জানান, তিনি পাকিস্তানের অ্যাটক জেলার তেহসিল পিন্ডিঘেবের বাসিন্দা। বুধবার সন্ধ্যায় বন্ধুরা তাকে ফোন করে জানান, ভারতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাশ্মীরে সংঘর্ষে তার নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়েছে। তখন তিনি বন্ধুদের জানান, তিনি জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় বাড়িতে আছেন।

এরপর অচেনা ভারতীয় নম্বর থেকে একাধিক ফোন আসতে থাকে বলে জানান আসিফ। ফোনকারীরা তার ব্যক্তিগত তথ্য জানতে চাইছিলেন এবং খবরে উল্লেখ করা ব্যক্তির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

আসিফ জানান, নম্বরগুলো ব্লক করার পর টেলিভিশনে নিজের ছবি ও ব্যক্তিগত সামরিক রেকর্ড দেখতে পান। সেখানে তাকে কাশ্মীরে ‘শহিদ’ হওয়ার খবর প্রচার করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানার পর তিনি তার সাবেক ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং জানান, তিনি নিরাপদে বাড়িতে আছেন।

পরে আইএসপিআর তার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং জীবিত থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে জানানোর জন্য সংবাদ সম্মেলনে আসতে বলে বলে জানান আসিফ।

নিজের সামরিক জীবনের বিষয়ে আসিফ বলেন, ২০০০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আর্টিলারি কোরে যোগ দেন এবং ২০০৫ সালে এসএসজিতে দায়িত্ব নেন। ১৮ বছর চাকরি করার পর ২০২৩ সালে অবসর নেন। এরপর তিন বছর একটি বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। বর্তমানে তিনি বাড়িতে নিজের ছোট ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে জানান।

ভারতের পক্ষ থেকে তার ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সীমান্তপারের সন্ত্রাসে জড়িত থাকার অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, সাজানো ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেন আসিফ। ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরেরও নিন্দা জানান তিনি।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিআর ডিজি ভারতকে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন সংগঠনকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ করেন। তার দাবি, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) ভারত সমর্থন ও অর্থায়ন করে থাকে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি সংবাদ সম্মেলনে নতুন কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

আইএসপিআর ডিজি আরও দাবি করেন, উরি, পাঠানকোট ও রাজৌরির ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে ভারত সংঘর্ষভিত্তিক বর্ণনা তৈরি করেছে এবং অভ্যন্তরীণ সমস্যার দায় পাকিস্তানের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো ঘটনার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ থাকলে তা উপস্থাপনের আহ্বানও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়েও কথা বলেন আহমেদ শরিফ চৌধুরী। তিনি বলেন, পাকিস্তান চুক্তিটি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিস্তারিত বিষয় গোপনীয় হওয়ায় তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

মক্কা চুক্তির প্রসঙ্গে তিনি হারামাইন শরিফাইনের নিরাপত্তার প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকারের কথা জানান। একই সঙ্গে সৌদি আরবের নিরাপত্তা এবং পাকিস্তানের নিজস্ব নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও মন্তব্য করেন।

পাকিস্তানের রাজনীতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আইএসপিআর ডিজি বলেন, সেনাবাহিনীর রাজনীতির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এবং রাজনৈতিক বিষয়ে তিনি মন্তব্য করবেন না। তিনি বলেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী সংবিধানের অধীন এবং রাষ্ট্রের নির্দেশনা অনুসরণ করে।

এ সময় পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের কথাও তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, গত দুই দশক ধরে দেশটি সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই চালিয়ে আসছে এবং পাকিস্তান সন্ত্রাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি।










  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]