
সংগৃহীত ছবি
ইসলামের অন্যতম পবিত্র নগরী মদিনায় মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ হামলার জন্য ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। তবে অভিযোগটি ভিত্তিহীন ও সাজানো দাবি করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে হুথি গোষ্ঠী।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার মদিনার একটি প্রধান বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কেন্দ্রটির একটি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে গেলেও বিকল্প ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়।
সৌদি জোটের দাবি, হামলার পর ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা ও তদন্ত করে এর সঙ্গে হুথিদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের ভাষ্য, মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীকে লক্ষ্যবস্তু করার ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছে জোটটি।
তবে হুথি নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা সাবার এক প্রতিবেদনে সৌদি জোটের অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও সাজানো’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। গোষ্ঠীটির এক সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেন, মক্কায় হামলার বিষয়ে সৌদি আরব আগে যে অভিযোগ তুলেছিল, তার পক্ষে প্রমাণ দিতে না পেরে এবার মদিনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন অভিযোগ আনা হচ্ছে।
এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের আকাশে হুথিদের ছোড়া চারটি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে খামিস মুশাইত ও জাজানের আকাশসীমায় দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ধ্বংস করার দাবি করেছে জোটটি।
ইয়েমেনের অভ্যন্তরেও সংঘাত তীব্র হচ্ছে। দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার দাবি করেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েক ডজন হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
সামরিক সূত্রের বরাতে দেশটির সেনাবাহিনী জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় তাইজের পশ্চিমাঞ্চলের জাবাল হাবাশি ও মাকবানাহ এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আল-আকরুদ ফ্রন্টে হুথিদের ব্যাপক গোলাবর্ষণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে আল-আকরুদ এলাকায় অন্তত ৩০ হুথি সদস্য নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া তাইজের বিভিন্ন ফ্রন্টে সরকারি বাহিনীর ছয়টি বিমান হামলায় হুথিদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানিয়েছে সেনাবাহিনী। এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
ইয়েমেনে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় বাস্তুচ্যুত মানুষের মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে। দেশটির বাস্তুচ্যুত শিবির ব্যবস্থাপনা ইউনিটের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ২৯ হাজার ৫১৯টি পরিবারের মোট ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯০৬ জন বাস্তুচ্যুত মানুষের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে।
বাস্তুচ্যুতদের বড় একটি অংশ আশ্রয় নিয়েছেন সংঘাতকবলিত তাইজ প্রদেশে। সেখানে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা ৯৭ হাজারের বেশি। এ ছাড়া লাহিজ প্রদেশে আশ্রয় নিয়েছেন আরও ৫০ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ।