
সংগৃহীত ছবি
ভারতের নির্বাচন কমিশনের ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার দিল্লির যন্তর মন্তরে একাধিক সংগঠনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, দিল্লিতে কেন্দ্রীয় ও অন্যান্য আধাসামরিক বাহিনীসহ প্রায় ৪ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, জেলা পুলিশ, রিজার্ভ ফোর্স, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ) ও অন্যান্য আধাসামরিক বাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) ২০টি কোম্পানিও মোতায়েন থাকবে বলে জানান তিনি।
পুলিশের ধারণা, বিক্ষোভে প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার মানুষ অংশ নিতে পারেন। এ কারণে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাজধানীর ১১টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকবে। স্টেশনগুলো হলো—জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক, সেবা তীর্থ, মান্ডি হাউস, লোক কল্যাণ মার্গ, আইএনএ, চাওড়ি বাজার, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ ও নয়াদিল্লি।
এর আগে বৃহস্পতিবার দিল্লি পুলিশ জানায়, চলতি সপ্তাহে যন্তর মন্তরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের জন্য কোনো সংগঠনকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।
শুক্রবার সকাল ১১টায় বিক্ষোভ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইএসএ) জানিয়েছে, তারা যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর সংগঠনটির সভাপতি নেহা বরার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রস্তাবিত কর্মসূচির বিষয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় লিখিত তথ্য জমা দিয়েছিল।
এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কেও প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছেন। তবে মুম্বাই পুলিশও সেখানে কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি।
ইন্ডিয়ান ইউথ কংগ্রেসও যন্তর মন্তরে কর্মসূচির জন্য অনুমতি চেয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদেরও অনুমতি দেওয়া হয়নি।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যন্তর মন্তরের আশপাশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করেছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে দিল্লি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী তলস্টয় মার্গ, জনপথ রোড ও সংসদ মার্গ থেকে যন্তর মন্তর পর্যন্ত কয়েক স্তরের ব্যারিকেড তৈরি করেছে। তলস্টয় মার্গ ও কেরালা ভবন—দুই দিক থেকেই বিক্ষোভস্থল ঘিরে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অশোকা রোডের কাছেও অতিরিক্ত ব্যারিকেড বসানো হয়েছে।