প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৬ পিএম (ভিজিট : ৫৯)

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় দুই হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অন্তত ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, মিরপুর মডেল থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একটি, পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে একটি এবং ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে আরেকটি মামলা করা হয়েছে। প্রতিটি মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে, কাফরুল থানায়ও এ ঘটনায় পৃথক একটি মামলা হয়েছে। চারটি মামলায় মোট আসামির সংখ্যা প্রায় দুই হাজার।
এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের একপর্যায়ে হোপ মার্কেটসংলগ্ন বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচে থাকা ভাসমান দোকান সরানোর সময় এক্সকাভেটরের আঘাতে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন ধরে যায় বলে জানান স্থানীয় দোকানি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। এতে মার্কেটের পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এরপর হকার ও দোকানিরা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে তাদের সঙ্গেও হকারদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপের জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
সংঘর্ষের মধ্যে সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এ ছাড়া পুলিশের একটি গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতির কারণে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর পর্যন্ত সড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে।
এ সময় ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীও হামলার শিকার হন। পরে দুপুরের দিকে আবার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। মিরপুর-১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাত থেকে ভাসমান দোকান সরিয়ে দেওয়া হয়।
মামলাগুলোর ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।