
শীর্ষ মাদক কারবারিদের একটি নির্মোহ ও নির্ভুল তালিকা তৈরির কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে কক্সবাজার হিলডাউন সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন সংক্রান্ত সভা’ শেষে সাংবাদিকদের এই নির্দেশনার কথা নিশ্চিত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
ইয়াবার ভয়াবহতা যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদকের বিস্তার রোধ করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের এই টাস্কফোর্স গঠনের পর মাদক চোরাকারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উখিয়া-টেকনাফ ও কক্সবাজার শহরের শীর্ষ আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারিও। যার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ থাকায় স্বামী-স্ত্রী উভয়ের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা রয়েছে। এছাড়া এই পর্যন্ত বহু মাদক ও অন্যান্য মামলায় হাজতও খেটেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে,তৎকালীন নিহত দেশের শীর্ষ ইয়াবা মাফিয়া টেকনাফের হাজি সাইফুল এর ডানহাতখ্যাত ক্রিড়া অঙ্গনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এই কারবারি পূর্বের সব ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ পুনরুদ্ধার করে নবোদ্যমে সারা দেশে সরবরাহ দিচ্ছে ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান। এছাড়া আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এর চিহ্নিত ক’জন শীর্ষ নেতারা তাকে সেল্টার দিলেও বর্তমান রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে ক্ষমতাসীন ও বিরোদী দল এর কতিপয় নেতারা তাকে সেল্টার দেওয়ার দাবী করছে। এছাড়া বর্তমান সরকার মাদক কারবারীদের একটি নির্মোহ তালিকা তৈরীর নির্দেশ দিয়েছে সে তালিকায় যেন নতুন করে নিজের নাম না আসে, তার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও কিছু রাজনৈতিক নেতাদের কাছে আধঘাট বেঁধে ধন্যা দিচ্ছে এবং টাকা ঢালছে। সূত্রে জানাগেছে, এভাবেই উখিয়া-টেকনাফ তথা পুরো জেলার মাদক কারবারিরা নতুন তালিকায় নাম না আসতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
কক্সবাজার সুশীল সমাজ এর নেতৃবৃন্দ বলছেন, “মাদকের বিস্তার রোধ করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার, এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে তাঁরা বলেন, কৌশলে অথবা কোন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নতুন তালিকায় থেকে যেন কোন মাদক কারবারির নাম বাদ না পড়ে। এছাড়া চিহ্নত গডফাদারদের স্থাবর অস্থাবর সম্পদ ক্রোকের যে প্রক্রিয়া সরকার শরু করেছে তা আরও গতিশীল করতে হবে”।
ওসময় মাদকের মূলহোতাদের দমনে কোনো ধরনের আপস করা হবে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শীর্ষ মাদক কারবারিদের একটি নির্মোহ তালিকা তৈরির কাজ শুরুহয়েছে। টাস্কফোর্সের মাধ্যমে এই তালিকা চূড়ান্ত করার পর তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া মাদক চোরাচালানের প্রতিটি রুট চিহ্নিত করে সেসব স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। এছাড়া স্থলপথের পাশাপাশি জলপথে মাদক আসা বন্ধ করতে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডে টহল জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাদক পাচারে যারা বাহক বা ‘ক্যারিয়ার হিসেবে কাজ করে, তাদেরও দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে
এ বিষয়ে কক্সবাজারের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক সুমন মন্ডল জানান, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সমন্বিত তালিকার তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এখানে ধাপে ধাপে এই তালিকা আপডেট হবে। সুতরাং পুরনো ও নতুন সক্রিয় কারবারি কেউ বাদ পড়ার সুযোগ নেই। তবে এই তালিকা নির্মোহ হবে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, “প্রশাসন এর সমন্বিত তালিকা তৈরী কার্যক্রম চলছে। এখানে চিহ্নিত কোন মাদক কারবারির নাম বাদ পড়বে না। এটা নিয়ে আমরা স্ব”ছতার সাথে কাজ করছি”
এ বিষয়ে কক্সবাজার পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান জানান, নতুন-পুরাতন মাদক কারবারি কেউ বাদ পড়ার সুযোগ নেই। এটা গোয়েন্দা সংস্থা থেকে শুরু করে প্রশাসন এর সমন্বিত তালিকা হবে। সেপ্টেম্বরে মাঝামাঝি সময়ে এই তালিকা চুড়ান্ত হতে পারে।