প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:৩৪ এএম (ভিজিট : ৭৪)

বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষর করেন। নিয়োগটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৬-এর উপধারা (১) অনুযায়ী বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে দুদক চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারকের সমপর্যায়ের নির্ধারণ করা হয়েছে। আর দুই কমিশনারের বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমপর্যায়ের হবে।
বিচারপতি আসাদুজ্জামানের কর্মজীবন
বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ১৯৫৯ সালের ১ মার্চ নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৩ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে আইন পেশায় যাত্রা শুরু করেন। পরে ১৯৮৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগ এবং ২০০১ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর ২০০৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারক হন। দীর্ঘ সময় হাইকোর্ট বিভাগে বিচারিক দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান এবং শপথ গ্রহণ করেন।
বিচারপতি আসাদুজ্জামান ২০১১ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ সচিবালয়ের দক্ষিণ এশীয় বিচারকদের আঞ্চলিক ফোরামে ‘Economic and Financial Crime’ বিষয়ক আলোচনায় অংশ নেন।
নতুন চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের নিয়োগের মধ্য দিয়ে প্রায় পাঁচ মাস পর দুর্নীতি দমন কমিশনের নেতৃত্বে পরিবর্তন এলো। নতুন কমিশনের কাছে দুর্নীতি দমন, অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার প্রত্যাশা রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।