
দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের কোনো মানুষ পিছিয়ে থাকবে না। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
বুধবার (১৭ জুন) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে নারী-পুরুষ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা ছাড়া দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যেই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে চা-বাগানের সব নারী শ্রমিকের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের সহায়তায় আগামী এক বছরে ৪০ লাখ কৃষক কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিক পরিবারের সন্তানদের শিক্ষায় সহায়তা হিসেবে বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
তারেক রহমান বলেন, জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় করা হবে। দেশের অর্থ পাচার হতে দেওয়া হবে না। জনগণের টাকা দিয়ে জনগণের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের দেওয়া বাজেটের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ও জীবনমানের উন্নয়ন। যারা জনবান্ধব উদ্যোগকে বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করছে, তাদের বিষয়ে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে জনগণের ঐক্য প্রয়োজন। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি কর্মক্ষম হাতকে কাজে লাগাতে পারলে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।