
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদনের পর যেকোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নতুন নেতৃত্ব আসার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সম্ভাব্য নেতাদের তালিকা সংক্ষিপ্ত করে চলছে শেষ দফার যাচাই-বাছাই। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদনের পর যেকোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দুই বছর মেয়াদি বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ গত ১ মার্চ শেষ হয়েছে। এরপর প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিই সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি সামনে আসায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, শিক্ষাজীবন, শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং অতীত কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক আন্দোলনে কার কী ভূমিকা ছিল, মামলা-গ্রেপ্তার বা নানা চাপের মধ্যেও কারা সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া সম্ভাব্য নেতাদের পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয়, একাডেমিক ফলাফল, সাংগঠনিক আচরণ এবং কোনো ধরনের বিতর্ক বা অভিযোগ রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ দুই পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাধান্য থাকতে পারে।
আলোচনায় যাঁদের নাম
নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পদে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বেশ কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এ বি এম ইজাজুল কবির (রুয়েল), মনজুরুল আলম (রিয়াদ), সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম (জিসান), ইব্রাহিম খলিল ও রাজু আহমেদের নাম রয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার (অনিক), জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন (শাওন) এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় রয়েছে।
কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি খোরশেদ আলম (সোহেল), এইচ এম আবু জাফর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম (তারিক), ফারুক আহমেদ, শরীফ প্রধান (শুভ) এবং সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ (প্রিন্স) এঁদের নামও সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় আছে।
‘সিন্ডিকেট’ নয়, এবার যাচাই-বাছাইয়ে জোর
অতীতে ছাত্রদলের কমিটি গঠনে বিভিন্ন পক্ষ বা সাবেক নেতাদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠলেও এবার এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট ‘সিন্ডিকেট’-এর তৎপরতার তথ্য সামনে আসেনি। বরং সম্ভাব্য নেতাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অতীত যাচাই করেই নেতৃত্ব বাছাইয়ের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের বৈঠকেও নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য কয়েকজন নেতার নামও তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে। সবকিছু পর্যালোচনা শেষে প্রথম ধাপে পাঁচ সদস্যের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা হতে পারে।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় থাকা এবং সংগঠনের জন্য অবদান রাখা নেতারা নতুন কমিটিতে এগিয়ে থাকতে পারেন। একই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যতে কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখাতেও পরিবর্তনের আভাস
কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়েও আলোচনা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও শাখার একাধিক নেতার নাম সম্ভাব্য নেতৃত্ব হিসেবে সামনে এসেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের ছাত্ররাজনীতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বাছাইয়ের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃত্বেও পরিবর্তন আসতে পারে।
এদিকে ২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলামকে সভাপতি ও নাছির উদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের সাত সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুই বছর মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবার সেই কমিটির স্থলে নতুন নেতৃত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।