
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নির্বাচনী ইশতিহার বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে মন্তব্য করেছেন তার বিশেষ সহকারী ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অরাজনৈতিক সংগঠন ‘‘সেভ বাংলাদেশ” এর উদ্যোগে স্থানীয় সময় আজ সন্ধ্যায় এক উষ্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ি সরকার ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করেছে, খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী প্রবর্তন করেছে, ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ড ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট পাইলটিং শুরু করেছে, নাম করা খেলোয়াড়দের সম্মানী ভাতা প্রদান শুরু করেছে এবং দেশি-বিদেশি কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের জন্য যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নে উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২২ এপ্রিল ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা) হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় প্রবাসীদের পক্ষ থেকে তাকে সম্মাননা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন অঙ্গনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাহিদ খান, সঞ্চালনায় ছিলেন কামরুন নাহার কণা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ এম্বাসির প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তজা এবং বিশিষ্ট বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন নয়ন বাঙালী।
বক্তারা ড. হায়দারের নতুন দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে প্রবাসী ও দেশের মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন গড়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, ড. হায়দার দীর্ঘ ১৬ বছরেরও বেশি সময় ওয়ার্ল্ড ব্যাংক -এ কর্মরত অবস্থায় ফেয়ারফ্যাক্স , ভার্জিনিয়া বসবাস করেছেন এবং সে সময় তিনি বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দেও সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি অংশকে সংগঠিত করে ‘সেভ বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠায় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন, যা ভার্জিনিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি এবং মেরিল্যান্ডভিত্তিক একটি অরাজনৈতিক, স্বৈরাচারবিরোধী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ‘সেভ বাংলাদেশ’-এর সাহসী ও সময়োপযোগী ভূমিকার প্রশংসা করেন ড. হায়দার। পাশাপাশি শেখ হাসিনার শাসনামলে সংগঠনটির প্রতিবাদী অবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
জিয়া হায়দার উল্লেখ করেন যে ‘সেভ বাংলাদেশ’ স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে প্রবাসীদের কণ্ঠস্বর জোরালোভাবে তুলে ধরার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে এবং বাংলাদেশে চলমান প্রতিবাদ আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেছে।
ড. হায়দার প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিকে দেশের উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যখাতে প্রবাসীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও বিনিয়োগ কাজে লাগানোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “প্রবাসে অর্জিত উচ্চতর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো এখন সময়ের দাবি।”
প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান জিয়া হায়দার। পাশাপাশি দেশের উন্নয়নের অংশীদার হতে উৎসাহিত করেন তিনি। একই সঙ্গে জিয়া হায়দার উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল - বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার এমন নীতিমালা ও সংস্কার বাস্তবায়ন করবে, যাতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেন এবং নিজ দেশে অপ্রয়োজনীয় আইনি ও নিয়ন্ত্রক জটিলতা ছাড়াই নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।