প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৮ এএম (ভিজিট : ৯২)

সংগৃহীত ছবি
সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ অনুমোদন করেছে তুরস্কের পার্লামেন্ট। এর ফলে তিন দেশের মধ্যে সম্মিলিত নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে নেওয়া এ চুক্তি কার্যকরের পথ আরও এগিয়ে গেল।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তুরস্কের জাতীয় পার্লামেন্টের সাধারণ অধিবেশনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আইনপ্রণেতাদের আলোচনার পর চুক্তিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পার্লামেন্টে ‘প্রজাতন্ত্র তুরস্ক, ইসলামি প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান এবং সৌদি আরব রাজ্যের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষাবিষয়ক মক্কা চুক্তি অনুমোদন বিল’ শীর্ষক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। পরে আইনপ্রণেতাদের আলোচনার পর এটি পাস হয়।
আলোচনায় ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) আইনপ্রণেতা জিয়া আলতুনিয়ালদিজ বলেন, চুক্তিটির প্রধান উদ্দেশ্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো। এটি কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে নয়; বরং সংঘাত উসকে দেওয়ার পরিবর্তে সম্ভাব্য সংঘাত প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে।
তবে চুক্তির আওতা ও তদারকির ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা। প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) মেহমেত গুজেলমানসুর বলেন, চুক্তিটি যেন তুরস্কের বিদ্যমান আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান থাকা প্রয়োজন।
এর আগে গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামরিক সমন্বয় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে দেশগুলো।
এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যসহ বৃহত্তর অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে তিন দেশ।