প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৫ এএম (ভিজিট : ৬০)

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতি বছর ৩৮০ কোটি ডলার নিরাপত্তা সহায়তা পেয়ে থাকে ইসরায়েল। তবে দেশটির আর এ সহায়তার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষেই ইসরায়েলের সঙ্গে বিদ্যমান সহায়তা চুক্তি বাতিল করা হবে।
মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
১০ বছর মেয়াদি চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৩৮০ কোটি ডলার পাওয়ার কথা ইসরায়েলের। এর মধ্যে ৩৩০ কোটি ডলার বৈদেশিক সামরিক অর্থায়ন এবং ৫০ কোটি ডলার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ। মূলত অস্ত্র কেনার কাজে এই অর্থ ব্যবহার করে ইসরায়েল।
তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, এ বছর শেষেই এই সহায়তা কর্মসূচি বন্ধ করা হবে। তাঁর দাবি, এ সিদ্ধান্তে ইসরায়েলের কোনো আপত্তি নেই। ২০১৯ সালে সহায়তা কর্মসূচিটি কার্যকর হয়। এর আগে ২০১৬ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে চুক্তিটি সই হয়েছিল।
মার্কিন টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করবে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করেই সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্পের ভাষ্য, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় দেশটিকে বেশি সহায়তা দেওয়া হয়। তবে এখন ইসরায়েলের আর এই সহায়তার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন হলে তিনি সহায়তা অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিতেন বলেও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা হিসেবে ৩০ হাজার কোটি ডলারের বেশি পেয়েছে ইসরায়েল। মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করলে এই পরিমাণ ১৯৪৬ সালের পর থেকে অন্য যেকোনো দেশকে দেওয়া মার্কিন সহায়তার চেয়ে বেশি।
এর আগে জানুয়ারিতে ‘দ্য ইকোনমিস্ট’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। মে মাসে মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সহায়তা শূন্যে নামিয়ে আনার ইচ্ছার কথা জানান।
এ ছাড়া জুনে ইসরায়েলের সামরিক স্বনির্ভরতা বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানান নেতানিয়াহু।